ডেঙ্গু ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যে নতুন নির্দেশনা দিল সরকার

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যে নতুন নির্দেশনা দিল সরকার

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ জন্য তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সমন্বয় শাখা থেকে স্মারক নং- ৫৭.০৩.০০০০.০০০.০১১.২৫.০০৯৫.২৬-১৭৮০ (২৩২)-এর মাধ্যমে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর-প্রতিষ্ঠান, বাজার কমিটি, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান, জনসমাগমস্থল এবং আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

দপ্তরপ্রধানদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতি শনিবার তাঁদের দপ্তর এবং দপ্তরসংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। ফলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ বা ক্যাম্পাসের ভেতরের অংশ নয়, প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাকেও এ কার্যক্রমের আওতায় রাখতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা, সভা, সেমিনার, আলোচনা সভা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি। স্থানীয় পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কার্যক্রম আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

প্রতি শনিবার পরিচালিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের ছবি, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম বাস্তবায়নের ছবি ও প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তিন মাসব্যাপী বিশেষ এ কর্মসূচিতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস, মশক নিধন এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত দিনে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকার সুযোগ তৈরি হয় এমন স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখার বিষয়টি এ কর্মসূচিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page