চুনারুঘাটে ইসলামী ফ্রন্ট নেতা শফিকুল ইসলাম দুলাল গ্রেফতার, ‘মিথ্যা মামলা’র অভিযোগ
শফিকুল ইসলাম তালুকদারের গ্রেফতারের পর মুক্তি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তালুকদার দুলালকে একটি মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁর গ্রেফতারে নিন্দা জানিয়ে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আব্দুস সামাদ এক বিবৃতিতে শফিকুল ইসলাম তালুকদার দুলালের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব হালিম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম সাংগঠনিক সচিব উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব ছোলাইমান খান রব্বানীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরাও তাঁর মুক্তির দাবি জানান।
এছাড়া স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ শফিকুল ইসলাম তালুকদার দুলালের গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চুনারুঘাট উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক এস এম আমির খান পৃথক বিবৃতিতে গ্রেফতারের ঘটনাকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার’ ফল বলে দাবি করেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মামলা প্রত্যাহার এবং শফিকুল ইসলাম তালুকদার দুলালের মুক্তির দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট পক্ষের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, মামলার বাদী মোতাহের প্রথমে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় তিন আসামি এক মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে একই ঘটনার বিষয়ে থানায় পুনরায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ওই বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, একই ঘটনার বিষয়ে আদালতে মামলা ও আসামিদের কারাবাসের পর পুনরায় থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মামলাটি ‘মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে সাজানো’ হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, পরবর্তীতে ২ নম্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ চুনারুঘাটের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিরোধটি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং মামলাটি থানায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী মোতাহেরের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
শফিকুল ইসলাম তালুকদার দুলালের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর অনুসারী, সংগঠনের নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
