সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গণপরিবহন চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দীর্ঘসময় বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে চালকদের জন্য নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা অমান্য করলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুন-সরকারি নিলামের গাড়ি কেনার নিয়ম ২০২৬ আপডেট
শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএ সদর কার্যালয় থেকে জারি করা এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সময় একটানা গাড়ি চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে ক্লান্তি, অবসাদ, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে। এর ফলে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং চালক, হেলপার, যাত্রী ও পথচারীদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, দেশের বিদ্যমান মোটরযান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কোনো চালক একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি যানবাহন চালাতে পারবেন না। পাঁচ ঘণ্টা চালানোর পর তাকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর আরও সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা গাড়ি চালানো যাবে। অর্থাৎ একজন গণপরিবহন চালক দিনে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
সংস্থাটি বলছে, এই নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে চালকের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘসময় স্টিয়ারিং ধরে বসে থাকার কারণে মনোযোগ কমে যায় এবং ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয়। ফলে মুহূর্তের অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ চালকের ক্লান্তি ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের অনেক চালক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় গাড়ি চালান। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াত করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা লঙ্ঘন করে গণপরিবহন পরিচালনা করলে শুধু চালক নয়, সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ট্রিপ বা আর্থিক লাভের আশায় অনেক সময় মালিকপক্ষ চালকদের অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালাতে চাপ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
পরিবহন খাত বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ বা বড় ছুটির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। তখন অনেক চালক টানা ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি চালান। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। বিআরটিএর নতুন এই সতর্কবার্তা সেই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। একই সঙ্গে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশনও বাতিলের আওতায় আসতে পারে। এতে পরিবহন মালিক ও চালকদের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়কে নজরদারি বাড়ানোও জরুরি। মহাসড়কে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কেন্দ্র, ড্রাইভার চেঞ্জিং পয়েন্ট এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে দুর্ঘটনা আরও কমানো সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। এর বড় একটি অংশ ঘটে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং ক্লান্ত চালকের কারণে। সেই বাস্তবতায় বিআরটিএর নতুন এই নির্দেশনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন মেনে চালকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা গেলে শুধু দুর্ঘটনাই কমবে না, বরং চালকদের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতাও ভালো থাকবে। একই সঙ্গে যাত্রীরাও নিরাপদ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
সবমিলিয়ে, গণপরিবহন চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে বিআরটিএর এই কঠোর অবস্থান দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন বার্তা দিয়েছে। এখন এই নির্দেশনা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: Rtv News তথ্য
আরও পড়ুন-কম টাকায় সরকারি নিলামের সম্পত্তি কেনার নিয়ম ২০২৬
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥










