বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন! কারা পাবেন, জানুন আবেদন ও যোগ্যতার নিয়ম

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
বিকাশে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন! কারা পাবেন, জানুন আবেদন ও যোগ্যতার নিয়ম

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল লোন নেওয়ার তথ্য।

হঠাৎ প্রয়োজনের সময় অর্থের ব্যবস্থা করতে অনেকেই এখন ডিজিটাল লোনের দিকে ঝুঁকছেন। বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে লোন পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিকাশ অ্যাপেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিজিটাল লোন নেওয়ার সুবিধা চালু রয়েছে। বিকাশের বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে সবার জন্য ৫০ হাজার টাকা লোন নিশ্চিত নয়; গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের অবস্থা ও ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোনের সীমা নির্ধারণ করে।

বিকাশের ডিজিটাল লোন সেবা মূলত বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয় এবং ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি ব্যাংকের কথা বিকাশের অফিসিয়াল তথ্যতে উল্লেখ রয়েছে। এই সেবার অন্যতম সুবিধা হলো লোন নেওয়ার জন্য প্রচলিত কাগজপত্র বা জামানতের প্রয়োজন হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করলেই প্রত্যেক গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোন পাবেন। বিকাশ জানিয়েছে, বর্তমানে নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের জন্য লোন সেবা চালু রয়েছে এবং যোগ্যতা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

বিকাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে আপনার বিকাশ অ্যাপে ‘Loan’ অপশনটি রয়েছে কি না। যদি কোনো গ্রাহকের জন্য লোন সুবিধা প্রযোজ্য হয়, তাহলে অ্যাপে লোন আইকন বা সংশ্লিষ্ট অপশন দেখা যেতে পারে। সেখানে প্রবেশ করলে গ্রাহক তার জন্য প্রযোজ্য লোনের সীমা সম্পর্কে জানতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোনের পণ্য থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য অনুমোদিত পরিমাণ তার চেয়ে কম হতে পারে। অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা হলো সর্বোচ্চ সীমা, প্রত্যেক গ্রাহকের নিশ্চিত লোনের পরিমাণ নয়।

কার জন্য কত টাকা লোন দেওয়া হবে, সেটি নির্ধারণে বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোনের সীমা নির্ধারণ করে। নিয়মিত বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখা এবং অ্যাড মানি, সেভিংস, পেমেন্টসহ বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে লোনের জন্য যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে বিকাশ জানিয়েছে। তবে এসব ব্যবহার করলেই লোন পাওয়া নিশ্চিত—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

লোনের পরিমাণ নির্ধারিত হওয়ার পর গ্রাহক অ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ নিতে পারেন। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, একজন যোগ্য গ্রাহক তার নির্ধারিত লোন লিমিটের পুরোটা একবারে নিতে পারেন অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী সীমার মধ্যে বিভিন্ন পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। ফলে কারও অনুমোদিত সীমা ৫০ হাজার টাকা হলেও তাকে একবারে পুরো ৫০ হাজার টাকা নিতে হবে এমন নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কম পরিমাণ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

বিকাশের ডিজিটাল লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার সবার জন্য একই—এমন নয়। অফিসিয়াল FAQ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকভেদে ভিন্ন সুদের হার নির্ধারণ করতে পারে। লোন নেওয়ার সময় বিকাশ অ্যাপেই প্রযোজ্য সুদের হার দেখানো হয় এবং সুদ দৈনিক ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। তাই ৫০ হাজার টাকা লোন নিলে মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে, সেটি শুধু মূল টাকার ওপর নির্ভর করে বলা যাবে না; গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য সুদের হার ও অন্যান্য খরচও বিবেচনায় নিতে হবে।

লোনের সঙ্গে প্রসেসিং ফিও থাকতে পারে। বিকাশের বর্তমান FAQ অনুযায়ী, ডিজিটাল লোনের প্রসেসিং ফি ০.৫৭৫ শতাংশ, যার মধ্যে ০.৫ শতাংশ প্রসেসিং ফি এবং ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা লোনের ক্ষেত্রে শুধু ০.৫৭৫ শতাংশ প্রসেসিং ফি হিসাব করলে তা ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়; তবে চূড়ান্তভাবে কত টাকা পাওয়া যাবে বা কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা অ্যাপে প্রদর্শিত শর্ত অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

লোন পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিকাশ অ্যাপভিত্তিক সুবিধা রয়েছে। নির্ধারিত পরিশোধের তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা থাকলে কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। চাইলে গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের আগেও নিজে লোন পরিশোধ করতে পারেন। তাই লোন নেওয়ার আগে কিস্তির পরিমাণ, পরিশোধের তারিখ, সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।

সময়মতো লোন পরিশোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের FAQ অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ না করলে বকেয়া অর্থের ওপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ০.৫০ শতাংশ বার্ষিক হারে লেট পেনাল্টি ইন্টারেস্ট আরোপ করতে পারে। ফলে শুধু দ্রুত লোন পাওয়া নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তি পরিশোধ করার সক্ষমতাও বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এখানে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—বিকাশ নিজে সব ক্ষেত্রে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে না। বিকাশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল লোন সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে লোনের যোগ্যতা, সীমা, সুদের হার, পরিশোধের নিয়ম এবং অন্যান্য আর্থিক শর্ত নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশ অ্যাপে যে শর্ত ও পরিমাণ দেখানো হবে, সেটিই গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সব মিলিয়ে, বিকাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এটি সবার জন্য নিশ্চিত নয়। যোগ্য গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল লোন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রত্যেক গ্রাহকের লোন লিমিট আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। তাই অ্যাপে ‘Loan’ অপশন দেখা যাচ্ছে কি না এবং সেখানে আপনার জন্য কত টাকা লোন অনুমোদিত হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লোন নেওয়ার আগে সুদের হার, প্রসেসিং ফি, কিস্তির পরিমাণ ও পরিশোধের সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page