রেলের টিকিটে জালিয়াতি ঠেকাতে ৭,৮১০ অ্যাকাউন্ট বন্ধ, বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত রেলমন্ত্রীর
রেলের টিকিটে জালিয়াতি ঠেকাতে ৭,৮১০ অ্যাকাউন্ট বন্ধ
বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রিকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং টিকিট জালিয়াতি ঠেকাতে গত তিন মাসে ৭ হাজার ৮১০টি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে অস্বাভাবিক এবং সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত হওয়ার পর এসব অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বারবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, অস্বাভাবিক লগইন কার্যক্রম এবং স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টার মতো বিষয়গুলো নজরে আসার পর অ্যাকাউন্টগুলো ব্লক করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৩৩৪টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে ব্লক করা হয়েছে ৪১৩টি অ্যাকাউন্ট এবং মে মাসে আরও ৩ হাজার ৬৩টি অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন মাসে বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮১০টিতে।
রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রির সময় দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ যাত্রীদের একটি অভিযোগ ছিল, টিকিট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেক টিকিট শেষ হয়ে যায়। অথচ পরে একই টিকিট বেশি দামে বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র টিকিট সংগ্রহ করছে কি না, সে বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সেবা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ও তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
রেলমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজস্ব সার্ভার অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা যাবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় বট, একাধিক অ্যাকাউন্ট এবং কৃত্রিমভাবে টিকিট সংগ্রহের প্রবণতা রোধ করতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই, লগইন নিরাপত্তা এবং অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আরও উন্নত করা দরকার।
রেলওয়ের এই পদক্ষেপকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জালিয়াতি ও টিকিট কালোবাজারি কমানো গেলে প্রকৃত যাত্রীরা সহজে টিকিট পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।
এখন রেলওয়ের নিজস্ব সার্ভার ব্যবস্থা চালু এবং টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আপনার মতামত লিখুন
Array