১০ টাকায় পৌঁছে যাবে পার্সেল আপনার ঠিকানায়, জানুন বিস্তারিত
১০ টাকায় পার্সেল পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে স্পিডপোস্ট
অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দ্রুত ও কম খরচে পার্সেল পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা। দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রথম ১ কেজি ওজনের পার্সেল পাঠাতে খরচ হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা। ফলে অনলাইন ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কম খরচে পণ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ কেজির বেশি ওজনের পার্সেলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য ৫ টাকা করে দিতে হবে। তবে একটি পার্সেলের সর্বোচ্চ ওজন ৩০ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ওজনসীমার মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পার্সেল পাঠানো যাবে।
স্পিডপোস্ট সেবার অন্যতম সুবিধা হলো তুলনামূলক দ্রুত পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা। জেলা শহর থেকে ঢাকায় পাঠানো পার্সেল সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একইভাবে এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। এসব এলাকায় স্পিডপোস্টের পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে পার্সেল পৌঁছানোর সময়ের পার্থক্য হতে পারে।
এই সেবার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। শুকনা খাবার, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পাঠানো যাচ্ছে। এ কারণে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সেবাটি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও স্পিডপোস্ট ব্যবহার করা যাবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা পার্সেল পাঠাতে সাধারণ গ্রাহকরাও এই সেবা নিতে পারবেন। কম খরচের পাশাপাশি দ্রুত ডেলিভারির সুবিধা থাকায় পার্সেল আদান-প্রদানে এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
স্পিডপোস্টে পার্সেল বুকিংয়ের জন্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট কোনো একটি ডাকঘরে যেতে হবে না। দেশের বিভিন্ন ধরনের ডাকঘর ও নির্ধারিত কাউন্টার থেকে এ সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সব জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর এবং টাউন সাব-পোস্ট অফিস রয়েছে।
এ ছাড়া সাব-পোস্ট অফিস, আরএমএস বুকিং কাউন্টার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস থেকেও স্পিডপোস্টে পার্সেল বুক করা যাবে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছাকাছি ডাকঘর থেকেই পার্সেল পাঠানোর সুযোগ থাকছে।
ডাক বিভাগের এই সেবার মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পার্সেল আদান-প্রদানেও কম খরচে ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কম খরচে পণ্য পরিবহনের একটি সুযোগ হিসেবে সেবাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।
যেভাবে পার্সেল পাঠাবেন
নিকটস্থ ডাকঘরে গিয়ে পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেজিং করে প্রাপক ও গন্তব্যের ঠিকানা লিখে নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করতে হবে। প্রেরিত পার্সেলটি কোথায় আছে, তা সহজেই ট্র্যাক করা যায়। বুকিংয়ের পর ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ দেওয়া হবে। এই নম্বর ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান অনলাইনে জানা যাবে। বুকিংয়ের আগে সম্ভাব্য খরচ হিসাব করার জন্য রয়েছে অনলাইন ক্যালকুলেটরও।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ থাকে। রাজধানীতে ঢাকা জিপিওসহ ২১টি সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি পার্সেল ডেলিভারি নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
পার্সেল সেবা ও অন্যান্য তথ্য ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.bdpost.gov.bd) পাওয়া যাবে। ফেসবুক পেজেও নানা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
