কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ

reporter
ধর্ম বিষয়ক প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ

কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ

কিয়ামতের দিন মানবজাতির জন্য হবে সবচেয়ে কঠিন ও ভয়াবহ সময়। সেদিন সূর্য মানুষের মাথার খুব কাছাকাছি চলে আসবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে হবে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাআলা বিশেষ সাত শ্রেণির মানুষকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। হাদিসে এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষ সেই ছায়ায় আশ্রয় লাভ করবেন।

আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যারা

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক
যিনি ক্ষমতার অপব্যবহার না করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন এবং অধীনস্থদের প্রতি ইনসাফ করেন। এ হাদিসের আলোকে যে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি—অভিভাবক, প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা—ন্যায়পরায়ণ হলে এই মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে যৌবন কাটিয়েছে
যিনি তরুণ বয়সকে ইবাদত, সৎকাজ এবং আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করেন।

৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত
যিনি এক ওয়াক্ত নামাজের পর পরবর্তী ওয়াক্তের অপেক্ষায় থাকেন এবং মসজিদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

৪. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসেন—এমন দুই ব্যক্তি
যাদের সম্পর্ক কোনো দুনিয়াবি স্বার্থের ওপর নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে।

৫. পাপের সুযোগ পেয়েও আল্লাহর ভয়ে বিরত থাকা ব্যক্তি
যাকে কোনো সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত নারী অবৈধ সম্পর্কে আহ্বান করলেও তিনি আল্লাহর ভয়েই তা প্রত্যাখ্যান করেন।

৬. গোপনে দানকারী ব্যক্তি
যিনি এমনভাবে দান করেন যে, তাঁর ডান হাত কী দান করেছে, বাম হাতও তা জানতে পারে না।

৭. নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু ঝরানো ব্যক্তি
যিনি একান্তে আল্লাহকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর ভয় ও ভালোবাসায় চোখের পানি ফেলেন।

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, এই সাতটি গুণ একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে থাকা আবশ্যক নয়। বরং যে ব্যক্তি এ গুণগুলোর যেকোনো একটি আন্তরিকভাবে ধারণ করতে পারবেন, তিনি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও কিয়ামতের দিন আরশের ছায়া লাভের আশা করতে পারেন।

তাই মুসলমানদের উচিত ন্যায়পরায়ণতা, ইবাদত, দান, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা। এসব আমল দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জীবনেই কল্যাণ বয়ে আনে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন