বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের যানবাহনের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে ইলেকট্রিক রিক্রিয়েশন বা সাইটসিয়িং কার। দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান Akij Motors তাদের “Akij Recreation Car” মডেলের মাধ্যমে এই সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে, যা মূলত পর্যটন এলাকা, রিসোর্ট, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা বড় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবহনের জন্য উপযোগী।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশের সেরা ইলেকট্রিক বাইকের দাম, রেঞ্জ ও ফিচার একসাথে
এই ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং কারটি একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৮ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম, যা ছোট পরিসরের পরিবহনের জন্য একটি কার্যকর সমাধান। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার এবং পূর্ণ চার্জে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে এটি স্বল্প দূরত্বে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য বেশ উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গাড়িটিতে ৫০০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৪৮ ভোল্ট ১৫০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাটারি হিসেবে VRLA (Valve Regulated Lead Acid) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
এই গাড়ির অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য। এতে কোনো ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করতে হয় না, ফলে জ্বালানি খরচ নেই এবং কার্বন নিঃসরণও শূন্যের কাছাকাছি। এছাড়া এটি প্রায় শব্দহীন হওয়ায় শব্দ দূষণও তৈরি করে না। ফলে শহর কিংবা পর্যটন এলাকায় এটি ব্যবহার করলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ে।
ডিজাইন ও ফিচারের দিক থেকেও গাড়িটি বেশ আধুনিক। এতে স্টাইলিশ ডিজাইন, হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেম এবং স্মুথ ড্রাইভিং সুবিধা রয়েছে। চেইন স্প্রকেটবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও তুলনামূলক কম।
নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বিবেচনায় গাড়িটিতে ১৫৫/৮০-১২ সাইজের টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় ভালো গ্রিপ প্রদান করে। এছাড়া নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি, মোটর এবং কন্ট্রোলারের জন্য ৬ মাসের শর্তসাপেক্ষ ওয়ারেন্টি দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পর্যটন ও নগর পরিবহন খাতে এই ধরনের ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে কম খরচে কার্যকর পরিবহন সুবিধা পাওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এটি লাভজনক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, Akij Recreation Car দেশের ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে একটি সম্ভাবনাময় সংযোজন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ব্যবহারের পথ খুলে দিতে পারে।
আরও পড়ুন-এক চার্জে ২০০ কিমি! কম খরচে শহরের পরিবহনে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক রিকশা
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










