দেশেই সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগে নতুন দিগন্ত, দাম নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
দেশেই সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগে নতুন দিগন্ত, দাম নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

দেশে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের স্থানীয় উৎপাদন আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। কৃষক, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্মার্টফোন ও ডাটা সংযোগ ছড়িয়ে দিতে সরকারের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি মানুষকে ডাটা সংযোগসহ স্মার্টফোনের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এর কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো ফিচার বা বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। বিপুল এই জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতেই কম দামের স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত স্মার্টফোনের মোট উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৫৫ মার্কিন ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ১৭ ডলার খরচ হবে এলসিডি স্ক্রিনে। মাদারবোর্ড, প্রসেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশে প্রায় ২৩ ডলার এবং ব্যাটারি ও কেসিংয়ে ১৫ থেকে ১৬ ডলার খরচ হবে।

উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও দাম কমিয়ে আনতে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানি ও কর সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে ফোনটির প্রাথমিক দাম প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্মার্টফোনের কার্যকর খরচ আরও কমাতে মোবাইল অপারেটরদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনটি মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ফোনের সঙ্গে প্রথম তিন মাস বিনামূল্যে ডাটা ও ভয়েস সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদনকারীদের ভর্তুকি এবং অপারেটরদের এই প্যাকেজের সমন্বয়ে একজন গ্রাহকের জন্য কার্যকর ব্যয় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে দেশীয় উৎপাদনকারীদের প্রতিনিধিরা চার সপ্তাহেরও বেশি সময় চীনে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। সরকারও এ উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের খাত ও ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে কিস্তি সুবিধাও সহজ করা হয়েছে। রেহান আসিফ আসাদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে ইএমআই সুবিধার ওপর থাকা আগের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। ফলে এখন যেকোনো ব্যাংক গ্রাহকদের মোবাইল ফোন কেনার জন্য কিস্তি সুবিধা দিতে পারবে। এতে একবারে পুরো অর্থ পরিশোধের চাপ কমবে এবং কম আয়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনার সুযোগ বাড়বে।

অন্যদিকে, চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড বা এসওএফ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তার তথ্য অনুযায়ী, এসওএফে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা আনুমানিক ২ কোটি মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে কীভাবে এই সুবিধা পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশে শতভাগ স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট কভারেজ নিশ্চিত করা। তবে গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ এখনো বাটন ফোনে অভ্যস্ত হওয়ায় ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ফিচার ও দামের ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

উপদেষ্টা জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রথম ফোন শিগগিরই বাজারে আসতে পারে। আর ডিলারদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ স্থানীয় উৎপাদন অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী, মোবাইল অপারেটর ও বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্পৃক্ত করেই পুরো উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page