১১৫টির মধ্যে ১১৪ অভিযোগে দোষী ম্যানচেস্টার সিটি, সামনে বড় শাস্তির শঙ্কা
দীর্ঘদিনের সেই মামলায় রায়, ১১৪ অভিযোগে দোষী ম্যানচেস্টার সিটি
ম্যানচেস্টার সিটিকে ঘিরে প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘদিনের আর্থিক অভিযোগের মামলায় অবশেষে এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ডেভিড অর্নস্টেইনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরও এখনই ক্লাবটির শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না। কারণ শাস্তির ধরন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি এবং ম্যানচেস্টার সিটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে এই ১১৫টি অভিযোগ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামনে আনে প্রিমিয়ার লিগ। অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় ক্লাবটির আর্থিক তথ্য, বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিয়ম মেনে চলা এবং তদন্তের সঙ্গে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অভিযোগের পর বিষয়টি একটি স্বাধীন কমিশনের কাছে যায় এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব।
এতদিন ম্যানচেস্টার সিটি সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। ফলে ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর ক্লাবটির জন্য বড় আইনি ধাক্কা হলেও এখানেই প্রক্রিয়ার শেষ হচ্ছে না। এখন পরবর্তী ধাপে শাস্তি নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য আপিলের বিষয়টি সামনে আসবে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন এবং আরও কঠোর শাস্তি হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য শাস্তির পরিসর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তাই ম্যানচেস্টার সিটিকে ইতোমধ্যে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা এখনই ঠিক হবে না।
এই মামলাটি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অভিযোগগুলো তাদের ক্লাব ইতিহাসের দীর্ঘ একটি সময়কে ঘিরে। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেটিও এই মামলার মাধ্যমে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ১১৫টির মধ্যে ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় মামলাটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত শাস্তি এবং আপিলের ফলাফল না আসা পর্যন্ত ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই।
ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য আপিলও এই ঘটনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে যাচ্ছে। আপিলের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হলে পুরো প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হতে পারে। একই সঙ্গে শাস্তি নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলোর প্রকৃতি ও মাত্রা বিবেচনা করতে হবে। ফলে ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর সামনে এলেও এখন মূল অপেক্ষা শাস্তির সিদ্ধান্তের জন্য।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলায় তাই ২৫ সেপ্টেম্বরের দিনটি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে অভিযোগ আনার পর ২০২৪ সালে শুনানি শেষ হয়, এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার রায়ের খবর প্রকাশ পেল। কিন্তু এখনও শেষ সিদ্ধান্ত আসেনি। শাস্তি কী হবে, ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করলে তার ফল কী হবে এবং শেষ পর্যন্ত ক্লাবটির ওপর কী ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি।
সব মিলিয়ে, ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টির মধ্যে ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবরে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। তবে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার এখনো নিশ্চিত নয় এবং কোনো শাস্তিই এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। সামনে শাস্তি নির্ধারণ ও সম্ভাব্য আপিলের প্রক্রিয়াই ঠিক করবে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
