প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু করছে বাংলালিংক

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু করছে বাংলালিংক

স্টারলিংকের প্রযুক্তিতে ডাইরেক্ট-টু-সেল সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে বাংলালিংক।

মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বে ডাইরেক্ট-টু-সেল (ডিটুসি) সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে বাংলালিংক। এর ফলে প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ না থাকলেও উপযুক্ত ৪জি ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রাথমিকভাবে মেসেজ ও সীমিত ডেটা সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা।

বাংলালিংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদনের পর সেবাটি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির এই উদ্যোগের আগে দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। বান্দরবান ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই মাসের প্রুফ-অব-কনসেপ্ট পরীক্ষায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।

ডিটুসি প্রযুক্তিতে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল ফোনে সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়। বাংলালিংকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এসএমএস ও ডেটা মেসেজিংয়ের মতো সীমিত সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ভিত্তিতে ভয়েস ও আরও বিস্তৃত ডেটা সেবা যুক্ত হতে পারে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তৈমুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স পেয়েছে এবং শিগগিরই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে এসএমএস, ওটিটি-ভিত্তিক মেসেজিং ও ভয়েস কলিং প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলালিংকের প্রস্তাব নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর কমিশনের সভায় আলোচনা ও অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই সেবায় ৪জি বা ৫জি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত উচ্চগতির মোবাইল ব্রডব্যান্ডের মতো গতি পাওয়া যাবে না। মূল লক্ষ্য থাকবে এমন এলাকায় মৌলিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা, যেখানে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন।

বাংলালিংকের সঙ্গে স্টারলিংকের অংশীদারত্বের ফলে বিশেষ কোনো স্যাটেলাইট ফোন বা ডিশের প্রয়োজন হবে না। বিটিআরসির অনুমোদিত সেবার ক্ষেত্রে ৪জি-সমর্থিত বাংলালিংক ফোন ব্যবহার করেই স্যাটেলাইট সংযোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগের জন্য আকাশের দিকে পর্যাপ্ত পরিষ্কার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন হতে পারে।

এই প্রযুক্তি দেশের চর, দ্বীপ, পার্বত্য এলাকা, উপকূল ও সাগরের এমন কিছু অঞ্চলে কাজে আসতে পারে, যেখানে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন বা রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন। সমুদ্র এলাকায় থাকা জেলে ও নৌযানের কর্মীরাও প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে মৌলিক যোগাযোগের সুবিধা পেতে পারেন।

দুর্যোগের সময়ও ডিটুসি প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে মোবাইল টাওয়ার, ফাইবার-অপটিক সংযোগ কিংবা বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ব্যবস্থা বিকল্প যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট সেবা সচল থাকা এবং ফোন থেকে আকাশের দিকে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা থাকা প্রয়োজন হবে।

বাংলালিংক ও স্টারলিংকের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিধি প্রচলিত টাওয়ারভিত্তিক কাঠামোর বাইরে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হলো। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মেসেজিং ও সীমিত ডেটা সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে; পরবর্তী ধাপে আরও সেবা যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page