তেলের আগুনে পুড়ছে ক্রেতার পকেট, মিলছে না হিসাব
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
গ্যাস ও বিদ্যুতের পর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। আয় না বাড়লেও সংসারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়ছে চাপ। এর মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজারে দেখা যায়, চাল, ডাল, ডিম, মাছ, শাকসবজি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দাম ৩ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
বাজারে মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৮ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগের দিন এ চালের দাম ছিল ৫৫ টাকা। বেগুন আকার ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। শসার দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি; এক সপ্তাহ আগে সর্বনিম্ন ৪০ টাকায়ও পাওয়া যেত।
সবজির মধ্যে কাঁচা মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০০ টাকা। টমেটো ১০০ টাকা কেজি, আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, যা আগে কেজিতে ৫ টাকা কম ছিল। পটলের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা কেজি।
খুচরা বাজারে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা। আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা। বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি, আগে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। খোলা আটা ৫০ টাকা ও খোলা ময়দা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে; আগে এসব পণ্যের দাম ছিল যথাক্রমে ৪৮ ও ৬৫ টাকা।
খোলা পাম ওয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১৬৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭০ টাকা। প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকা হয়েছে। কম দামের মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা।
বাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বিক্রেতারা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মাসের শেষদিকে এসে সংসারের খরচের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বগুড়া থেকে সবজি নিয়ে রাজধানীতে আসা ব্যবসায়ী মো. বাপ্পা মজুমদার বলেন, এক সপ্তাহ আগেও বগুড়া থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক আনতে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ভাড়া লাগত। এখন একই ট্রাকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। পরিবহণ খরচ বাড়ায় এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়ছে বলে জানান তিনি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সাধারণ মানুষ যখন আগে থেকেই খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে রয়েছে, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে সব শ্রেণির ভোক্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, পণ্যের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের জীবন এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের পুরোটা ভোক্তাকে বহন করতে হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে না পারেন, সে জন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পণ্যের দামে যাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বেশি প্রভাব না পড়ে, সে জন্য সরবরাহব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বাজারে নজরদারি ও মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
