জন্মের আগে সম্মতি না নেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করবেন তরুণ

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
জন্মের আগে সম্মতি না নেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করবেন তরুণ

জন্মের আগে সম্মতি নেওয়া হয়নি—এমন যুক্তিতে মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ভারতের এক তরুণ।

জন্মের আগে নিজের সম্মতি নেওয়া হয়নি—এমন যুক্তিতে জন্মদাতা মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ভারতের ২৭ বছর বয়সী এক তরুণ। মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী রাফায়েল স্যামুয়েল মনে করেন, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সিদ্ধান্ত একজন মানুষের নিজের ছিল না। তাই সন্তানকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তের দায় মা-বাবারই নেওয়া উচিত বলে দাবি তার।

রাফায়েলের যুক্তি, জন্মের আগে কোনো শিশুর সম্মতি নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব নয়। তবে যেহেতু কেউ নিজের ইচ্ছায় জন্ম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তাই জন্মের পর জীবনের যাবতীয় কষ্ট ও ব্যয়ের দায় কেন সন্তানের ওপর থাকবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তার এই ব্যতিক্রমী অবস্থানের কারণে মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। বরং দুজনই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। রাফায়েলের মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল নিজেও আইনজীবী। তিনি ছেলের এমন অবস্থানের বিষয়ে হাস্যরসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

কবিতা এক বিবৃতিতে বলেন, মা-বাবা দুজনই আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও ছেলে তাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছে—এ জন্য তিনি ছেলের সাহসের প্রশংসা করেন। তার বক্তব্য, রাফায়েল যদি যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নেওয়া সম্ভব ছিল, তাহলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করবেন।

রাফায়েলের এই চিন্তাভাবনার সঙ্গে ‘অ্যান্টি-ন্যাটালিজম’ বা জন্মবিরোধী দর্শনের মিল রয়েছে। এই দর্শনের অনুসারীরা মনে করেন, মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে দুঃখ, কষ্ট ও ভোগান্তি জড়িয়ে আছে। তাই নতুন মানুষের জন্ম না দেওয়াই নৈতিকভাবে অধিক যুক্তিসংগত—এমন মত পোষণ করেন তারা।

রাফায়েল প্রায় এক বছর আগে ‘নিহিলানন্দ’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতে শুরু করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন ডিজিটাল পোস্টারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া, মানুষের ওপর জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া এবং জন্মের আগে সম্মতির মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তার একটি প্রশ্ন ছিল—কোনো শিশুকে নিজের ইচ্ছার বাইরে পৃথিবীতে নিয়ে আসা এবং পরবর্তী সময়ে তাকে ক্যারিয়ার গড়াসহ নানা দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা কি কোনোভাবে অপহরণ বা দাসত্বের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে?

তবে নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এমন অবস্থান নিয়েছেন—এমনটা অস্বীকার করেছেন রাফায়েল। তার ভাষ্য, নিজের জীবন মোটামুটি ভালোই কাটছে এবং তিনি বিষণ্ণ নন। বরং এটি তার একটি দার্শনিক অবস্থান। মানুষের অস্তিত্ব না থাকলে পৃথিবী আরও সুন্দর হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি।

রাফায়েল নিজেও জানেন, তার পরিকল্পিত মামলা আদালত গ্রহণ নাও করতে পারে। জন্মের আগে একজন ব্যক্তির সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি বাস্তবে কীভাবে আইনি অধিকারে পরিণত হতে পারে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। তবু মামলা করার পরিকল্পনার পেছনে তার মূল উদ্দেশ্য হলো বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও বৈশ্বিক আলোচনা তৈরি করা।

তার এই অবস্থান ঘিরে জন্ম, ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাবা-মায়ের দায়িত্ব এবং মানুষের অস্তিত্বের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে রাফায়েলের বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত দার্শনিক অবস্থান এবং এটিকে আদালতে কীভাবে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page