এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণে বড় পরিবর্তন, ফেল থেকে পাস কত?

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষণে বড় পরিবর্তন, ফেল থেকে পাস কত?

পুনঃনিরীক্ষণে বদলে গেল হাজারো শিক্ষার্থীর ফল

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া পুনঃনিরীক্ষণের পর আরও অনেক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন বিষয়ের ফল পরিবর্তন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর প্রকাশ করা হলো পুনঃনিরীক্ষণের ফল।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে আবেদনকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য জমা পড়া মোট উত্তরপত্রের সংখ্যা বেশি।

সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

এবার পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছিলেন, প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

আগের নিয়মে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডেও পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বড়সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। এ বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের বেশি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশের পর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এটি গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার। ফলে মূল ফল প্রকাশের পর ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার প্রবণতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ার পর শিক্ষা বোর্ডগুলো উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলে ফেল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পাস এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের নম্বর ও ফলাফলেও পরিবর্তন হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীর।

ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের সংশোধিত ফল দেখতে পারবেন। যারা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন, তাদের মুঠোফোন নম্বরেও ফলাফল জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page