এক লাখ কৃষকের হাতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’,যেদিন উদ্বোধন

প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
এক লাখ কৃষকের হাতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’,যেদিন উদ্বোধন

কৃষক কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয় ও সরকারি কৃষিসেবা সহজলভ্য করতে চালু হওয়া কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। উদ্বোধনের দিন সারাদেশের এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

কৃষক কার্ডকে কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও কৃষিসেবা পাওয়ার সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। তখন ১০ জেলার ১১টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। এবার মূল কার্যক্রমে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট কৃষকের তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। এতে সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও সহজ হবে।

কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায়ও তাদের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ বা পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধিত হয়েছেন।

নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া প্রায় দেড় শতাংশ মৎস্যচাষি এবং ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ গবাদিপশু পালনকারী রয়েছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্যে ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

জমির মালিকানার হিসাবে প্রায় ৪৩ শতাংশ কৃষক ক্ষুদ্র কৃষক, যাদের জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page