ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীরা কে কত টাকা সম্মানি পাবেন

প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীরা কে কত টাকা সম্মানি পাবেন

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতার কাঠামো নির্ধারণ

মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত নির্বাচিত ব্যক্তিদের জন্য পদভেদে মাসিক সম্মানির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। একইভাবে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় দায়িত্ব পালনকারী নির্ধারিত ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা সম্মানির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান শাখা থেকে জারি করা ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’-এ এই কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশিত হয় এবং গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।

নীতিমালার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, একটি নির্বাচিত মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। অর্থাৎ এই তিন পদে মাসিক সম্মানির জন্য একটি মসজিদে মোট ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে।

মন্দিরের ক্ষেত্রে পুরোহিত মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। ফলে নির্বাচিত একটি মন্দিরে এই দুই পদের জন্য মাসে মোট ৮ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

বৌদ্ধ বিহারেও একই ধরনের কাঠামো রাখা হয়েছে। সেখানে বিহার অধ্যক্ষ মাসে ৫ হাজার টাকা এবং বিহার উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। অর্থাৎ এই দুই পদের জন্য মাসিক মোট সম্মানির পরিমাণ হবে ৮ হাজার টাকা।

গির্জার ক্ষেত্রে যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন। ফলে নির্বাচিত একটি গির্জায় এই দুই পদের জন্য মাসিক মোট ৮ হাজার টাকা সম্মানির ব্যবস্থা থাকবে।

তবে কোনো নির্বাচিত ধর্মীয় উপাসনালয়ে একই পদে একাধিক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করলে সবাই সরকারি সম্মানি পাবেন না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, একই পদে একাধিক ব্যক্তি কর্মরত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে সম্মানির জন্য নির্বাচন করা হবে। এই নির্বাচন নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

এর অর্থ হলো, শুধু কোনো মসজিদ, মন্দির, বিহার বা গির্জায় সংশ্লিষ্ট পদে দায়িত্ব পালন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি সম্মানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে না। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়কে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হতে হবে এবং কর্মরত ব্যক্তিকেও নীতিমালার আওতায় সুবিধাভোগী হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। এরপর তার প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারি ব্যবস্থাপনার ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মাসিক সম্মানির পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এককালীন ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্বাচিত মসজিদের সম্মানিভোগীরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রত্যেকে ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। অন্যদিকে মন্দিরের সম্মানিভোগীরা দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ বিহারের সম্মানিভোগীরা বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং গির্জার সম্মানিভোগীরা বড়দিন উপলক্ষে ২ হাজার টাকা করে এককালীন উৎসব ভাতা পাবেন।

নীতিমালায় ভবিষ্যতে সম্মানির হার পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাজেট বরাদ্দ বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে সরকার নির্ধারিত সম্মানির পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।

সম্মানি পরিশোধের ক্ষেত্রে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, G2P বা Government to Person পদ্ধতিতে Electronic Fund Transfer বা EFT-এর মাধ্যমে সম্মানির অর্থ পাঠানো হবে। পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসাব অথবা ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে।

কোনো কারণে কোনো সম্মানিভোগী পরিবর্তিত হলে নতুন নির্বাচিত ব্যক্তি ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাস থেকেই সম্মানি পাওয়ার যোগ্য হবেন। আবার প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্মানির অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়ে তা বকেয়া হিসেবে দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালার ফলে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত নির্ধারিত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সম্মানির একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হলো। একই সঙ্গে কারা সম্মানি পাবেন, কীভাবে নির্বাচন হবে, কোন মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হবে এবং উৎসব ভাতা কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page