হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গভীর রাতে বিক্ষোভ
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল
জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদ্রাসা থেকে মিছিলটি বের হয়।
মিছিলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে মিছিল শেষ করেন। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তারা দাবি করেন, সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার বক্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহকে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা ঘোষণা দেন।
এদিকে, শনিবার বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘিরেই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় তিনি সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করেন।
সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার গভীর রাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি তৎপরতা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে শনিবারের এনসিপির কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য জানা যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাতের এই বিক্ষোভের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শনিবার এনসিপির নির্ধারিত সাংগঠনিক কর্মসূচিকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
