ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, আইসিডিডিআর,বির জরুরি সতর্কতা
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। এডিস মশাবাহিত এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সচেতনতামূলক বার্তায় ডেঙ্গুর সাধারণ ও বিপজ্জনক লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরা হয়।
আইসিডিডিআর,বির তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো হঠাৎ উচ্চ জ্বর। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং পেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। জ্বর শুরুর দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শরীরে ছোট ছোট লাল দাগ বা ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে। বমি বমি ভাব, বমি, খাবারে অরুচি, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতাও ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।
তবে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। তীব্র পেটে ব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা ঝিমুনির মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।
ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার জন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে হবে এবং মশার বংশবিস্তার করতে পারে এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় দিনে বা রাতে মশারি ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার বিষয়টি এরই মধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ডেঙ্গু সাধারণত বর্ষাকালে বেশি ছড়ালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর মৌসুমি ধরনে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে থেকেই এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে আসছেন।
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়াকেও পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার লক্ষণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর কমার পরও কিছু রোগীর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরের সময় এবং জ্বর কমে যাওয়ার পরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিডিডিআর,বি একই সঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। শুধু একটি বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই এডিস মশার বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই বাড়ি, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত নজরে রাখা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি সামাজিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
