এসএসসি ফলে বড় ধাক্কা, দিনাজপুর বোর্ডের ১৮ স্কুলে শূন্য পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
এসএসসি ফলে বড় ধাক্কা, দিনাজপুর বোর্ডের ১৮ স্কুলে শূন্য পাস

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ১৮টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বড় ধরনের হতাশার চিত্র সামনে এসেছে। বোর্ডের অধীন ১৮টি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।

শূন্য পাসের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলায় পাঁচটি। কুড়িগ্রামে চারটি, রংপুর ও গাইবান্ধায় দুটি করে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে একটি করে বিদ্যালয় রয়েছে।

শূন্য পাসের তালিকায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় ও ঘাসিপুর উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ীর মনোহারপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। নীলফামারীর ডোমারের আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ও রয়েছে এই তালিকায়।

কুড়িগ্রামের চারটি প্রতিষ্ঠান হলো রাজারহাটের তালতলা উচ্চবিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদরের পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় থেকেও কেউ পাস করেনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সদর উপজেলার আকছা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, অনভারদিঘী উচ্চবিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও তওয়ারীগাঁও উচ্চবিদ্যালয় এবং হরিপুরের রামপুর ভাটুরিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বালারামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ও রয়েছে তালিকায়।

এদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলেও এবার পাসের হার কমেছে। ২০২৬ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।

শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির মতো বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেগুলোর ফলাফল খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page