শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতে ই-বাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় জেলা শহরগুলোতে বিশেষ গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমন্বিত পরিবহন সার্ভিস চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস (ই-বাস) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বাসে থাকবে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে বাসের অবস্থান সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
যে ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় এই সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো হলো—ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ইতোমধ্যে ‘বৃহৎ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াতব্যবস্থা প্রকল্প’ নামে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের নেতৃত্বে গত ১৪ জুলাই প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাউশি জানিয়েছে, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হলে তা সম্পন্ন করে প্রথমে পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এরপর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মূল প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মাউশির পরিচালক অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে ২৩ হাজার ৯৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু নিজস্ব বাস থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থা নেই। ফলে তাদের সাধারণ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। স্কুল ও কলেজ ছুটির সময়ে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট, অনিয়মিত চলাচল এবং বাড়তি ভাড়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
শিক্ষাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের পরিবহন ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে যানজট ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
তাদের মতে, প্রথম পর্যায়ে বড় শহরগুলোতে এই ব্যবস্থা চালু করে সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরেও তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
