শিক্ষা উপবৃত্তিসহ সরকারি ৫ ভাতার আবেদন শুরু,অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
সরকারি ভাতার অনলাইন আবেদন চলছে
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা উপবৃত্তিসহ সরকারের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ভাতা কর্মসূচিতে নতুন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই যোগ্য ও আগ্রহী ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের উপকারভোগীদের তথ্য হালনাগাদ এবং নতুন যোগ্য আবেদনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এ আবেদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে আবেদন নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি এবং বেসরকারি নিবন্ধিত এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্রান্ট।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা ও উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনলাইন আবেদন পোর্টাল dss.bhata.gov.bd/online-application ঠিকানায়। অন্যদিকে, বেসরকারি নিবন্ধিত এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাপিটেশন গ্রান্টের আবেদন গ্রহণ করা হবে mswservices.gov.bd/auth/login পোর্টালের মাধ্যমে।
আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই নিজের স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক। প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদনকারীর সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। কেউ নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের তথ্য ব্যবহার করে আবেদন করলে সেক্ষেত্রেও যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, যারা বর্তমানে সরকারের অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভাতা বা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এ কর্মসূচির জন্য নতুন করে বিবেচিত হবেন না। একইভাবে, যারা পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাদের পুনরায় আবেদন করারও প্রয়োজন নেই। আগের আবেদনই কার্যকর থাকবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা মূল্যায়ন করা হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও হালনাগাদ করার লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য আবেদনকারীদের নির্বাচন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে ভাতা ও উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ লক্ষ্যে বিভাগীয় পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও মাঠপর্যায়ে আবেদন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই বা প্রযুক্তিগত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখার টেকনিক্যাল টিম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যার সমাধানেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন না করলে পরবর্তী সময়ে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই আগ্রহী আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে সময়সীমার মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
