গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, যেসব কারণে এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, যেসব কারণে এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার

বাংলাদেশে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যাত্রী নিরাপত্তা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিত করতে আজ (১ আগস্ট) থেকে দেশের সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS) ডিভাইস সংযুক্ত ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাস, মিনিবাসসহ গণপরিবহনের অবস্থান, গতি ও চলাচল এখন আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, এখন থেকে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান কিংবা ফিটনেস নবায়নের জন্য জিপিএস সংযুক্ত থাকার প্রমাণ এবং সেটি সচল রয়েছে কি না, তা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। জিপিএস ছাড়া কোনো যানবাহনকে এসব সেবা দেওয়া হবে না।

কেন বাধ্যতামূলক করা হলো জিপিএস

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতি, রুট ভঙ্গ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত স্টপেজে থামা এবং দুর্ঘটনার মতো নানা সমস্যা বিদ্যমান। এসব অনিয়ম কমিয়ে আনতেই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে—

  • প্রতিটি গণপরিবহনের রিয়েল-টাইম অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
  • নির্ধারিত রুট অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।
  • অতিরিক্ত গতি বা বেপরোয়া চালনা শনাক্ত করা যাবে।
  • দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত গাড়ির অবস্থান নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
  • যানবাহন চুরি বা নিখোঁজ হলে দ্রুত ট্র্যাক করার সুযোগ তৈরি হবে।
  • ভবিষ্যতে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল পরিবহন সেবা বাস্তবায়নে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নে নতুন শর্ত

বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন কোনো গণপরিবহন নিবন্ধনের জন্য জিপিএস সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের সময়ও জিপিএস সচল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এজন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত যাচাই ব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে জিপিএসের কার্যকারিতা সহজেই নিশ্চিত করা যায়।

বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিপিএস স্থাপনের বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে দেশের সব গণপরিবহনে একদিনেই জিপিএস স্থাপন সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।

শুধু প্রযুক্তি নয়, দরকার সুশাসনও

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান মনে করেন, শুধু জিপিএস সংযুক্ত করলেই সড়ক নিরাপত্তার সব সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি ও সুশাসনের সমন্বয় ঘটলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব।

যাত্রীদের জন্য কী সুবিধা

এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা আরও নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবহন সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাত্রীদের জন্য বাসের অবস্থান, সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় (ETA) এবং রুট সংক্রান্ত তথ্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেখার সুযোগও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাও সহজ হবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে জিপিএস বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি, সঠিক বাস্তবায়ন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন