ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি

reporter
শিক্ষা ডেস্ক | SIB NEWS
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ইবতেদায়ি মাদরাসার  শিক্ষকদের বেতন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি

ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক বেতন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শূন্যপদের শিক্ষক বেতন ছাড়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক এখনো বেতন না পেলেও টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়েকজন শিক্ষকের বেতন ছাড় করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ।

বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শূন্যপদের বিপরীতে বেতন ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সাত সদস্যের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি বৈধভাবে ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করে। তালিকাটি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও পায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তালিকাভুক্ত এসব শিক্ষক এখনো তাদের প্রাপ্য বেতন পাননি।

অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দাবি—এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করে অর্থের বিনিময়ে কয়েকজন শিক্ষকের শূন্যপদের বেতন ছাড় করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো মাদরাসায় বিধিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চারজন শিক্ষক বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ থেকে নয়জন শিক্ষকের নাম বেতন শিটে বহাল রাখা হয়েছে এবং তাদের নামে বেতন ছাড়ের অভিযোগও উঠেছে।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইবতেদায়ি মাদরাসা শাখায় দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মেমিস (MEMIS) শাখায় কর্মরত সহকারী প্রোগ্রামার মো. শরিফুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক নেতারা। তারা জানতে চেয়েছেন, কার নির্দেশে বিধিবহির্ভূতভাবে শূন্যপদের বেতন ছাড়, অতিরিক্ত শিক্ষক অন্তর্ভুক্তি এবং বেতন শিটে অতিরিক্ত নাম বহাল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষকের বকেয়া বেতন দ্রুত ছাড়েরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ দাখিলের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শিক্ষক নেতারা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেও তিনি তাদের সাক্ষাৎ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন। সংগঠনটির নেতারা আরও দাবি করেন, গত তিন দিন ধরে মহাপরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।

এছাড়া মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ পরিচালক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে বা যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: দৈনিক শিক্ষাডটকম

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন