রাবির আবাসিক হলে মশা ও উড়ন্ত পোকার উৎপাত, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে মশা ও উড়ন্ত পোকার উপদ্রবে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে মশা ও উড়ন্ত পোকার উপদ্রব শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হলের কক্ষ, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, আমতলাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় মশা ও ছোট ছোট উড়ন্ত পোকার সংখ্যা বেড়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিশ্রাম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বই নিয়ে বসেছিলেন। তবে মশার অত্যাচারে পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েল জ্বালিয়েও স্বস্তি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মশারির ভেতরে বসেই পড়াশোনা করতে হয় তাঁকে। এ সময় ঘরের আলো ঘিরে উড়তে থাকা অসংখ্য ছোট পোকার কারণে বই-খাতা ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে ওঠে।
শুধু একজন নন, বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার বলেন, মশা ও উড়ন্ত পোকার কারণে স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করা যায় না। অনেক সময় উড়ন্ত পোকা খাবারের ওপর বসে, এমনকি শরীরে কামড়ও দেয়। তাঁর দাবি, সম্প্রতি একটি পোকার কামড়ে তাঁর হাতে ফোলাভাব দেখা দেয়।
একই হলের আরেক শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার রিমা জানান, ফাইনাল পরীক্ষার সময় রাতে ঘুমের মধ্যে পোকার কামড়ে তাঁর গলায় ক্ষত তৈরি হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে মলম ব্যবহার এবং ইনজেকশন নিতে হয়েছে।
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিফা রাফিয়া বারী বলেন, এক রাতে একটি বড় উড়ন্ত পোকা কক্ষে ঢুকে সারারাত শব্দ করায় ঘুমাতে পারেননি। অন্যদিকে তাপসী রাবেয়া হলের শিক্ষার্থী রত্না রানী বলেন, মশার পাশাপাশি ছোট উড়ন্ত তেলাপোকার উপদ্রবও বেড়েছে, যা আবাসিক হলে থাকা আরও কষ্টকর করে তুলেছে।
মন্নুজান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আশীয়ারা খাতুন জানান, হলের ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ময়লার ডাস্টবিন অপসারণ এবং হলসংলগ্ন ঘাসও নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিষ্কার করা হচ্ছে। এরপরও কোথাও সমস্যা থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মাহদী বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১৫ দিন পরপর আবাসিক হলে ফগিং করার কথা থাকলেও সব হলে নিজস্ব ফগার মেশিন নেই। এছাড়া মশকনাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের উচ্চমূল্য এবং সীমিত বাজেটের কারণে নিয়মিত ফগিং সব সময় সম্ভব হয় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম ফারুকী বলেন, বর্ষাকালে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
তাঁর মতে, শুধু ফগিং করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক লুমান মঞ্জুর বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ডেঙ্গু। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কারও জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে নিয়মিত ফগিং, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
