ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভুলেও খাবেন না এই ৪ খাবার
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে অনেকেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গাঁটে ব্যথা, ফোলাভাব, চলাফেরায় অসুবিধা এমনকি গাউটের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যদিও ওষুধের পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড পুরোপুরি খারাপ কোনো উপাদান নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ার একটি অংশ। সাধারণ অবস্থায় কিডনি ইউরিক অ্যাসিড ফিল্টার করে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। তবে কিডনি যদি ঠিকভাবে এটি অপসারণ করতে না পারে, অথবা শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়, তাহলে তা রক্তে জমতে শুরু করে। পরবর্তীতে এই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জয়েন্টে স্ফটিক আকারে জমে ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে অনেকের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—
১। রাতে বা ভোরে হঠাৎ পায়ের আঙুল বা গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা ।
২। পায়ের জয়েন্টে ফোলাভাব ও লালচে ভাব ।
৩। হাঁটাচলা বা বসা-ওঠার সময় ব্যথা অনুভব করা ।
৪। জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া ।
৫। আক্রান্ত স্থানে স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভূত হওয়া ।
তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখেই ইউরিক অ্যাসিড নিশ্চিত করা যায় না। রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
১. অতিরিক্ত দই
দই সাধারণভাবে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও, ইউরিক অ্যাসিডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কী পরিমাণ ও কী ধরনের দই উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটযুক্ত বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো দই নিয়মিত খাওয়ার বদলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা ভালো।
২. জাঙ্কফুড ও ভাজাপোড়া খাবার
বার্গার, পিজ্জা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরের ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব খাবার যতটা সম্ভব সীমিত রাখা উচিত। এর পরিবর্তে তাজা ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মাশরুম
ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মাশরুমে কিছু পরিমাণ পিউরিন থাকে। পিউরিন ভেঙেই শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের সবজি সমানভাবে ক্ষতিকর নয়। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে এসব সবজি খাওয়া নিরাপদ। তবে যাদের ইউরিক অ্যাসিড খুব বেশি বা গাউটের সমস্যা রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকা নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করবেন।
৪. অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার অন্যতম ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বিয়ার ও কিছু মদ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপযুক্ত কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবারও সীমিত রাখা উচিত।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে কী খাবেন?
শুধু কিছু খাবার বাদ দিলেই হবে না, বরং খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন—
১। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
২। মৌসুমি ফল ও শাকসবজি বেশি খান।
৩। পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার বেছে নিন।
৪। কম চর্বিযুক্ত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) গ্রহণ করতে পারেন।
৫। নিয়মিত হাঁটুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি বারবার জয়েন্টে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব বা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকে, তাহলে নিজে থেকে খাদ্যাভ্যাস বদলানোর পাশাপাশি অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে হতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, জাঙ্কফুড, অ্যালকোহল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট খাবার সীমিত রাখলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তবে কোনো খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
