দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশের তরুণরা: ইউএনএফপিএ

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশের তরুণরা: ইউএনএফপিএ

ইউএনএফপিএর জরিপে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে থাকা বাংলাদেশের তরুণদের চিত্র।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈষম্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন বাংলাদেশের তরুণরা। বিশ্ব জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক বৈশ্বিক জরিপে উঠে এসেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান কিংবা প্রতিবেশী ভারতের তরুণদের চেয়েও বাংলাদেশের যুবসমাজের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার হার বেশি।

ইউএনএফপিএর সাম্প্রতিক জরিপে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে তা ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও সমাজের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৭.২ শতাংশ তরুণ ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, আয় এবং বৈষম্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ৭৩টি দেশের বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম। তুলনামূলকভাবে ভুটানে এই হার ৬৬.৩ শতাংশ, আফগানিস্তানে ৫৪.৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৩.২ শতাংশ এবং ভারতে ৪৭.৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের জাতীয় যুব নীতি অনুযায়ী দেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ তরুণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই জনগোষ্ঠী প্রতি বছর বিপুল সংখ্যায় শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সেই হারে বাড়ছে না।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু একই সময়ে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ মানুষের। ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম তরুণ উপযুক্ত চাকরি বা আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; আধুনিক, বাজারমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান উদ্বেগকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া সম্ভব। তা না হলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বেকারত্ব দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন