ফাইনালে কাকে চায় স্পেন? আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে মুখ খুললেন দে লা ফুয়েন্তে
ফাইনালের আগে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন। এখন তাদের অপেক্ষা দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলাফলের দিকে। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষেই আগামী ২০ জুলাই শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের আগেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
ডালাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্পেন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচকে প্রশ্ন করা হয়, ফাইনালে তিনি আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড—কোন দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চান?
জবাবে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, তাঁর কাছে দুই দলই সমান কঠিন। তিনি মনে করেন, দুটি সেমিফাইনালই আসলে ফাইনালের আগাম লড়াই।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পছন্দ-অপছন্দের অবস্থানে নেই। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলই শক্তিশালী। তাদের খেলার ধরনও ভিন্ন। ইউরোপীয় ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার ফুটবলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’
তবে ব্যক্তিগত একটি কারণ উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার আগ্রহও প্রকাশ করেন স্পেন কোচ। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘স্কালোনির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রয়েছে। তাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে সেটা আমার জন্য বিশেষ আনন্দের হবে। তবে ইংল্যান্ডও দারুণ শক্তিশালী একটি দল এবং তাদের বিপক্ষেও কঠিন ম্যাচ হবে।’
স্পেন কোচ আরও বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি ইংল্যান্ডকে অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘ইংল্যান্ডের ফুটবলীয় শক্তির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। যে দলই ফাইনালে উঠুক, আমরা তাদের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’
স্পেন কোচ ও আর্জেন্টিনা কোচের সম্পর্ক শুধু সহকর্মীর নয়। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে স্পেনের রয়্যাল ফুটবল ফেডারেশনের কোচিং কোর্সে লিওনেল স্কালোনিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। সেই সময় থেকেই দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে ফাইনালে তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেমিফাইনালে ওঠা চারটি দল—স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—সম্পর্কেও উচ্চ প্রশংসা করেছেন স্পেন কোচ। তাঁর মতে, এই চারটি দলই বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সেরাদের প্রতিনিধিত্ব করছে।
তিনি বলেন, ‘স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচ যেমন আগাম ফাইনাল ছিল, তেমনি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটিও আরেকটি আগাম ফাইনাল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের সেমিফাইনালে ওঠা বিশ্বকাপে খুবই বিরল ঘটনা। এটি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মানকেই তুলে ধরে।’
এখন সব নজর দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দিকে। ইংল্যান্ড নাকি আর্জেন্টিনা—কে হবে স্পেনের শেষ বাধা, সেটিই জানার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
