মাধ্যমিকেও চালু হচ্ছে মিড-ডে মিল, শিক্ষার্থীরা পাবে বিনামূল্যে ড্রেস, জুতা ও মোজা

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মাধ্যমিকেও চালু হচ্ছে মিড-ডে মিল, শিক্ষার্থীরা পাবে বিনামূল্যে ড্রেস, জুতা ও মোজা

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস, জুতা ও মোজা বিতরণ কর্মসূচি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর এবার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও মোজা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ঝরে পড়া কমানো, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ নামে এই কর্মসূচি প্রথম ধাপে দেশের পিছিয়ে পড়া ১ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি অর্থবছর থেকেই এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হবে।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হবে। প্রতিজন শিক্ষার্থীর খাবারের জন্য দৈনিক ১২০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। শুধু এই খাতেই মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৭২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় প্রতি শিক্ষার্থীকে বছরে দুই সেট স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে, যার জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া এক জোড়া জুতা ও মোজার জন্য বরাদ্দ থাকবে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

পাঁচ বছরে স্কুল ড্রেস বিতরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং জুতা-মোজা বিতরণে ব্যয় হবে ১৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। এছাড়া কমনরুম, স্বাস্থ্য উপকরণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হবে।

মাউশির কর্মকর্তারা জানান, অনেক শিক্ষার্থী দূর-দূরান্ত থেকে বিদ্যালয়ে আসে। বৃষ্টি বা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার কারণে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এজন্য বিদ্যালয়ে কমনরুম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে বিশ্রাম নিতে পারে।

এছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের নির্ধারিত কিছু ক্লাসে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক আলাদা বই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষাবিদরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, তারা সতর্ক করে বলেছেন—প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ নিয়ে আগে অভিযোগ উঠেছিল। তাই মাধ্যমিক স্তরে এই কর্মসূচি সফল করতে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, প্রকল্পের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই আরেকটি কর্মশালার মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

অন্যদিকে, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সরকারের লক্ষ্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা। এজন্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার, স্কুল ড্রেস, স্বাস্থ্য উপকরণ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং দ্রুত অনুমোদন মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন