কোচিং সেন্টার চালাতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
কোচিং সেন্টার চালাতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কোচিং সেন্টার পরিচালনায় সরকারি অনুমতির বিষয়ে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী।

দেশে কোচিং সেন্টার পরিচালনায় নতুন নীতিমালার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে কোচিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজন উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন কমে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের ঘাটতির কারণেই শিক্ষার্থীরা কোচিংমুখী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। কোচিং কার্যক্রম শিক্ষাব্যবস্থার জন্য কতটা উপযোগী বা ক্ষতিকর—সেটিও রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর পরীক্ষা ব্যবস্থাও হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির বাইরে নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডিজিটাল পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে বিজি প্রেস পরিদর্শন করেছেন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান বজায় রাখতে পরীক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান। পাশাপাশি খাতা মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা হবে।

বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা স্থানীয় প্রশাসন সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র ও ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন