খুচরা ব্যবসায়ীদের স্বস্তি, প্রত্যাহার হচ্ছে নতুন করের প্রস্তাব

বাণিজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
খুচরা ব্যবসায়ীদের স্বস্তি, প্রত্যাহার হচ্ছে নতুন করের প্রস্তাব

খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর

খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর প্রস্তাবিত ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর (এটিএ) আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আপত্তি ও বাজারে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এ কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো দেশের খুচরা ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে তাদের কাছে পণ্য সরবরাহের সময় ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর (Advance Tax-AT) কেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, এর মাধ্যমে করজাল আরও বিস্তৃত হবে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনা সহজ হবে।

তবে বাজেট ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, খুচরা পর্যায়ে অগ্রিম কর আরোপ করা হলে এর বাড়তি চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই গিয়ে পড়বে। কারণ অতিরিক্ত করের অর্থ ব্যবসায়ীরা পণ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে বাধ্য হবেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, খুচরা বাজারে হাজারো ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী কাজ করেন, যাদের অনেকেরই লাভের পরিমাণ তুলনামূলক কম। নতুন এই কর কার্যকর হলে তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এছাড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, প্রস্তাবিত কর বাস্তবায়ন করা হলে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হিসাব সংরক্ষণ, কর সমন্বয় এবং অর্থপ্রবাহ ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি হবে, যা ব্যবসার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এসব আপত্তি ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর এনবিআর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে বাজেটে প্রস্তাবিত এই কর কার্যকর হবে না।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, করজাল সম্প্রসারণ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন কর আরোপের ক্ষেত্রে বাজারের বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তখন এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় যা পরোক্ষভাবে ভোক্তার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

যদিও প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্য থেকে সরকার সরে আসছে না। ভবিষ্যতে ব্যবসাবান্ধব ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতিতে খুচরা ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

বর্তমানে ব্যবসায়ীদের নজর এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে খুচরা ব্যবসায়ীরা নতুন অগ্রিম করের চাপ থেকে আপাতত স্বস্তি পাবেন, আর ভোক্তারাও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে পারেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন