ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে আসছে কঠোর ব্যবস্থা, জানাল ডিএমপি
রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ডিএমপি।
রাজধানী ঢাকার যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেওয়া, ২০ বছরের বেশি পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধ, উল্টোপথে যান চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএমপির কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রধান সড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল, ফিটনেসবিহীন যান এবং নিয়ম না মেনে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানেই নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ, ফিটনেসবিহীন ও দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করা অকেজো যানবাহনের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে সড়কের বাম পাশের লেন সচল রাখা, নির্ধারিত গতিসীমা বাস্তবায়ন এবং উল্টোপথে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়েও কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর প্রবণতা বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসবে এবং নগরবাসী আরও নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা পাবেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যানবাহনে জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান, গতি এবং চলাচল আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে ডিএমপি।
আরও পড়ুন-বিকট শব্দ সৃষ্টি করা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু,জরিমানা কত?
অনুষ্ঠানে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক এবং লেক রোডে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেখানে যানবাহনের নির্ধারিত গতিসীমা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, মালিক এবং সাধারণ সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে যানবাহন পরিচালনা করা গেলে সড়ক নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সড়কের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করেছে। সিটি করপোরেশন এলাকার এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং নগর এলাকার অন্যান্য সড়কে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। শহর এলাকায় মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চালানোর অনুমতি নেই।
ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। এজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
