ইসলামে হিজাব পরার বিধান কী?, কোরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে

reporter
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
ইসলামে হিজাব পরার বিধান কী?, কোরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে

????????????????????????????????????????????????????????

ইসলামে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শালীনতা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো পর্দা বা হিজাব। তবে পর্দা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ মনে করেন পর্দা মানেই ঘরবন্দি জীবন, আবার কেউ এটিকে শুধু সামাজিক প্রথা হিসেবে দেখেন। অথচ ইসলাম পর্দাকে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে বিবেচনা করে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, পর্দা শুধু পোশাকের বিষয় নয়; এটি আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক শালীনতারও অংশ। কোরআন ও হাদিসে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই শালীনতা ও দৃষ্টিসংযমের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের (চাদরের) কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৯)

ইসলামী গবেষকদের মতে, এই আয়াতে নারীদের শালীন পোশাক পরিধান এবং নিজেকে অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি ও হয়রানি থেকে রক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সুরার ৩৩ নম্বর আয়াতে নারীদের অপ্রয়োজনীয় সৌন্দর্য প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

পর্দার গুরুত্ব সম্পর্কে আলেমরা বলেন, এটি নারীর স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়; বরং তার মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। সমাজে এখনো দেখা যায়, পর্দাশীল নারীদের প্রতি অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা সম্মান প্রদর্শন করা হয় এবং তারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানি থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকেন।

মুখমণ্ডল আবৃত করা ফরজ কি না—এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, মুখ ঢেকে রাখা উত্তম এবং ফেতনা বা সামাজিক অনাচারের আশঙ্কা থাকলে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ নারীদের জন্য পরিপূর্ণ হিজাব পালনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হিজাব পালনের কারণে কোনো নারীর শিক্ষা, কর্মজীবন বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয় না। বরং শালীনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই ইসলামের শিক্ষা। অনেক মুসলিম নারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, একই সঙ্গে হিজাবও অনুসরণ করছেন।

কোরআনে দৃষ্টিসংযম, লজ্জাস্থানের হেফাজত এবং শালীন জীবনযাপনকে সফলতার অন্যতম উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হিজাব কেবল পোশাক নয়; এটি একজন মুসলিম নারীর পরিচয়, মর্যাদা এবং আল্লাহর নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হিজাব ও পর্দার বিধানকে সঠিকভাবে বুঝে পালন করা প্রয়োজন। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের অংশ নয়, বরং একটি শালীন ও নৈতিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন