মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার মানে নিতে বদলাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা
মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার মানে নিতে বদলাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে দেশের শিক্ষা কাঠামোকে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবন ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন- অনগ্রসর এলাকায় ৫০০ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়বে সরকার
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি দক্ষ মানবসম্পদনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে শিক্ষার বিকল্প নেই। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করতে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে পাঠদান পদ্ধতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে শিক্ষার্থীরা মূলত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়। উদ্ভাবনী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। তাই নতুন প্রজন্মকে স্টার্টআপ, গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা এবং প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সংযোজন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোট ২৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন ধারণা, পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানমূলক প্রকল্প দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।
প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান অর্জন করে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। দ্বিতীয় হয় রহিমানগর বিএবি উচ্চবিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে গুলবাহার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, বৈশ্বিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন নয়, বরং প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের নতুন উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন- ২০২৮ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে আসছে ৪ বিষয়, কী শিখবে শিক্ষার্থীরা?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আপনার মতামত লিখুন
Array