৬০ নিত্যপণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব, স্বস্তির আশা ভোক্তাদের

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা এসেছে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসের কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যয় কমবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন- ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় সেরা ৫ স্মার্টফোন

প্রস্তাব অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ প্রায় ৬০টি মৌলিক পণ্যের ওপর বর্তমানে বিদ্যমান ১ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ৫ শতাংশ উৎসের কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই কর কাঠামোয় এই পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে করের বোঝা কমলে ব্যবসায়ীদের খরচও কিছুটা কমবে। তবে এর সুফল পেতে হলে বাজারে কার্যকর নজরদারি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কর কমানোর সুবিধা ভোক্তার কাছেও পৌঁছায়।

বাজেটে শুধু কর কমানোর প্রস্তাবই নয়, দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ভোজ্যতেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারে পড়ে। এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্পকে কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি পাবেন। এরপরের তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং শেষ দুই বছর ২৫ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। অর্থাৎ মোট ১০ বছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে কর সুবিধা থাকবে।

সরকারের আশা, এই উদ্যোগ দেশীয় ভোজ্যতেল শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, কৃষকদের তৈলবীজ চাষে উৎসাহিত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোজ্যতেলের বাজারকে আরও স্থিতিশীল করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর ছাড়ের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন- বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়তে পারে নিকোটিন পণ্যের শুল্কও

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, শিক্ষা, চাকরি,ইসলামিক,দ্রব্যমূল্য, বাজার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now