দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত মোট ৬৩১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন ঢাকায়, একজন সিলেটে এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগে ছিল।
আরও পড়ুন-হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৬২৮
একই সময়ে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৪ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ শিশুর মধ্যে। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ হাজার ১৭০ শিশু। তাদের মধ্যে ৬২ হাজার ২৯২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
সরকারি হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৩৯ শিশু। এছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯২ শিশুর। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগটি সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফ দীর্ঘদিন ধরেই হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই রোগটির বিস্তার ও জটিলতা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বর্তমানে প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের ঘরে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমাতে টিকাদান কার্যক্রম, সচেতনতামূলক প্রচার এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক দৈনিক পরিস্থিতি প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন-হাম-রুবেলা টিকার অনলাইন নিবন্ধন শুরু, কিভাবে সহজে আবেদন করবেন(A-Z)










