আপনার মোবাইলে লুকিয়ে থাকা এই সেটিংস কি সত্যিই ব্যাটারি দ্বিগুণ বাঁচাতে পারে?

প্রকাশিত: 04-06-2026 11:37 PM
পনার মোবাইলে লুকিয়ে থাকা এই সেটিংস কি সত্যিই ব্যাটারি দ্বিগুণ বাঁচাতে পারে?

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া। নতুন ফোন কিনলেও কয়েক মাস পর অনেকেই লক্ষ্য করেন, আগের মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের মাঝামাঝি সময়েই চার্জার খুঁজতে হয়। তবে অনেকেই জানেন না, ফোনের ভেতরে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন-স্মার্টফোনে সবসময় ব্লুটুথ অন রাখছেন? যেসব ঝুঁকিতে পড়তে পারেন

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের ব্যাটারি শুধু হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় কিছু অপ্রয়োজনীয় ফিচার সবসময় চালু থাকার কারণে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। ফলে কয়েকটি সেটিংস পরিবর্তন করেই দৈনন্দিন ব্যবহারে দীর্ঘ সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ করে ফোনের ডিসপ্লে। বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোনে 90Hz, 120Hz কিংবা 144Hz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। উচ্চ রিফ্রেশ রেট ফোনকে স্মুথ অভিজ্ঞতা দিলেও ব্যাটারি বেশি খরচ করে। যাদের সারাদিন ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রয়োজন, তারা রিফ্রেশ রেট অটো বা 60Hz-এ সেট করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ সাশ্রয় করতে পারেন।

এছাড়া অনেক ফোনে Always On Display ফিচার ডিফল্টভাবে চালু থাকে। এতে স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও সময়, নোটিফিকেশন ও অন্যান্য তথ্য দেখানো হয়। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এটি সারাক্ষণ ব্যাটারি ব্যবহার করে। প্রয়োজন না থাকলে এই ফিচার বন্ধ রাখাই ভালো।

লোকেশন বা GPS আরেকটি বড় ব্যাটারি খরচের কারণ। বিভিন্ন অ্যাপ প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে লোকেশন ব্যবহার করতে থাকে। ফোনের Settings থেকে Location Permission অপশন চেক করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোকে অনুমতি দিলে ব্যাটারি ব্যাকআপ অনেকটাই বৃদ্ধি পেতে পারে।

অনেক ব্যবহারকারী খেয়াল না করেই Bluetooth, NFC, Nearby Share কিংবা Wi-Fi Scanning সারাক্ষণ চালু রাখেন। অথচ এসব ফিচার ব্যবহার না করলেও ব্যাটারি খরচ করতে থাকে। তাই যখন প্রয়োজন নেই, তখন এগুলো বন্ধ রাখলে ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অ্যাপগুলোও ব্যাটারির অন্যতম শত্রু। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ অনেক অ্যাপ ফোন ব্যবহার না করলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য আপডেট করতে থাকে। Settings থেকে Battery Optimization বা Background Activity Restriction চালু করলে এই অপ্রয়োজনীয় ব্যাটারি খরচ কমানো সম্ভব।

বর্তমান সময়ে প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে Battery Saver বা Power Saving Mode নামে একটি ফিচার রয়েছে। অনেকেই এটি শুধুমাত্র চার্জ কমে গেলে ব্যবহার করেন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি প্রসেসরের গতি, ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম এবং কিছু ভিজ্যুয়াল এফেক্ট নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।

ফোনের স্ক্রিন ব্রাইটনেসও ব্যাটারি ব্যাকআপে বড় প্রভাব ফেলে। সারাক্ষণ সর্বোচ্চ ব্রাইটনেসে ফোন ব্যবহার করলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। অটো ব্রাইটনেস চালু রাখা বা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রাইটনেস কমিয়ে ব্যবহার করলে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। কোনো সেটিংসই বাস্তব অর্থে ব্যাটারি “দ্বিগুণ” করে দিতে পারে না। ব্যাটারির সক্ষমতা নির্ভর করে এর প্রকৃত ধারণক্ষমতা, ফোনের হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহার পদ্ধতির ওপর। তবে সঠিকভাবে সেটিংস ব্যবস্থাপনা করলে অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

যারা সারাদিন ফোন ব্যবহার করেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর কিংবা অফিস কর্মীরা, তারা এই সেটিংসগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় ব্যাটারির পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

সবশেষে বলা যায়, নতুন পাওয়ার ব্যাংক বা বড় ব্যাটারির ফোন কেনার আগে নিজের স্মার্টফোনের লুকিয়ে থাকা সেটিংসগুলো একবার দেখে নেওয়া উচিত। হয়তো সেখানেই লুকিয়ে আছে আপনার ফোনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপের রহস্য।

আরও পড়ুন-রিস্টার্ট আর রিবুট এক নয়, ফোনের এই পার্থক্য জানেন কতজন?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now