দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও জ্বালানি সংকট ঘিরে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বা অনলাইন ক্লাস চালুর গুঞ্জনের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে পাঠদানই অব্যাহত থাকবে এবং অনলাইন ক্লাস চালুর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
আরও পড়ুন-প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে পদ কমে ১১,১৫১ এনটিআরসিএর নতুন সিদ্ধান্ত
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর এলাকায় কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ঘুরে দেখেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল বন্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সশরীরে ক্লাস চালু রাখা হবে।”
তিনি আরও জানান, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
স্কুল বন্ধ বা অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে অনলাইন ক্লাস চালুর কোনো চিন্তা আমাদের নেই। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে আসা এবং সরাসরি শিক্ষার মাধ্যমে শেখার সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী জুন-জুলাই মাসকে সামনে রেখে শিক্ষা খাতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তৃতি নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী অন্তত ৯৬ শতাংশ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বয়সসীমার শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও যোগাযোগ দক্ষতায় পারদর্শী করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, ডিজাইন এবং সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
হামের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনাগুলো আমরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, মিড-ডে মিলের অবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। গুজবের বাইরে থেকে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-এসএসসি ২০২৬ নকলমুক্ত পরীক্ষার ঘোষণা খাতা মূল্যায়নেও কঠোর অবস্থান শিক্ষামন্ত্রীর
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









