বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে, তখন অনেকদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে বৈদ্যুতিক পিকআপ বাজারে প্রবেশ করল জাপানি অটোমোবাইল জায়ান্ট টয়োটা। দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়িত্বের জন্য পরিচিত হাইলাক্স এবার নতুন রূপে, সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংস্করণ নিয়ে হাজির হয়েছে। ফলে জনপ্রিয় এই পিকআপ ট্রাকটি এখন জ্বালানি নির্ভরতা ছাড়িয়ে ইলেকট্রিক ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করল।
বিশ্বের বাজারে ইতোমধ্যে রিভিয়ান, ফোর্ড ও টেসলার মতো ব্র্যান্ড বৈদ্যুতিক পিকআপ নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সেই ধারাবাহিকতায় টয়োটার এই নতুন উদ্যোগকে অটোমোবাইল শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা কাজের প্রয়োজনে পিকআপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি নতুন বিকল্প তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-৫ লাখ টাকার ইলেকট্রিক গাড়ি ঢাকায় এক্সপোতে সাড়া ছোট গাড়িতে বড় চমক
নতুন প্রজন্মের হাইলাক্সে বৈদ্যুতিক শক্তি
প্রায় এক দশক পর হাইলাক্সের নবম প্রজন্ম আত্মপ্রকাশ করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি। থাইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের মাধ্যমে এই মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে।
নতুন হাইলাক্স সিঙ্গেল ও ডাবল কেবিন উভয় সংস্করণে পাওয়া যাবে। তবে ইউরোপের বাজারে আপাতত ডাবল কেবিন সংস্করণই পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে একটি ডুয়াল মোটর সেটআপ, যেখানে সামনে ও পেছনে আলাদা মোটর যুক্ত রয়েছে।
পারফরম্যান্স ও শক্তির দিক থেকে কী থাকছে
নতুন বৈদ্যুতিক হাইলাক্সে ৫৯.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে, যা থেকে সর্বোচ্চ ১৯৩ হর্সপাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়। সামনের মোটর ১৫১ পাউন্ড-ফুট এবং পেছনের মোটর ১৯৮ পাউন্ড-ফুট টর্ক সরবরাহ করে।
এই পিকআপ ট্রাকটি ভার বহনের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সক্ষম। এতে সর্বোচ্চ ৭১৫ কেজি পেলোড বহন করা সম্ভব। পাশাপাশি প্রায় ৩৫২৭ পাউন্ড পর্যন্ত টোয়িং ক্ষমতাও রয়েছে, যা কাজের প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
এক চার্জে কতদূর চলবে
ড্রাইভিং রেঞ্জের ক্ষেত্রে টয়োটা জানিয়েছে, নতুন হাইলাক্স বৈদ্যুতিক সংস্করণ সম্পূর্ণ চার্জে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। যদিও আধুনিক কিছু ইলেকট্রিক গাড়ির তুলনায় এই রেঞ্জ তুলনামূলক কম, তবে স্বল্প দূরত্বে কাজের জন্য এটি যথেষ্ট কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে খামার, নির্মাণ কাজ বা শহরের ভেতরে নিয়মিত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই রেঞ্জ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী হতে পারে।
চার্জিং ও ডিজাইনে আধুনিক ছোঁয়া
গাড়িটির ব্যাটারি ল্যাডার ফ্রেমের নিচে স্থাপন করা হয়েছে, যা মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র নিচে রাখে এবং স্থিতিশীলতা বাড়ায়। এটি সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে, ফলে তুলনামূলক দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব।
ডিজাইনের দিক থেকেও নতুন হাইলাক্স আগের চেয়ে অনেক আধুনিক। এতে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক পাওয়ার স্টিয়ারিং যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমে ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেট সুবিধা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট সহজ করবে।
শুধু ইলেকট্রিক নয়, আরও থাকছে একাধিক সংস্করণ
টয়োটা শুধু বৈদ্যুতিক সংস্করণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাজারভেদে ২.৮ লিটার টার্বোডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্গে ৪২-ভোল্ট মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তি, নন-ইলেকট্রিফাইড ডিজেল এবং ২.৭ লিটার গ্যাসোলিন সংস্করণও আনা হবে।
এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেল সংস্করণ, যা ২০২৮ সাল থেকে বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে টয়োটা একসঙ্গে একাধিক জ্বালানি প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
ইলেকট্রিক যানবাহনের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টয়োটার এই পদক্ষেপকে অনেকেই কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য হাইলাক্স এবার বৈদ্যুতিক রূপে আসায় ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন নতুন অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়। বিশেষ করে যারা পরিবেশবান্ধব এবং কম খরচের সমাধান খুঁজছেন, তাদের জন্য এই পিকআপ ট্রাক ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন-পেট্রোল পাম্পে ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকার তেল ভরলে কীভাবে কম তেল দেওয়া হয়
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









