বাংলাদেশে প্রাইজবন্ড কত ধরনের ও কত টাকার হয়? জেনে নিন সর্বশেষ তথ্য
বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডই নতুনভাবে ইস্যু করা হয়।
বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো প্রাইজবন্ড। এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন পরিচালিত একটি সঞ্চয়ভিত্তিক আর্থিক পণ্য, যার ব্যবস্থাপনা করে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর (National Savings Directorate-NSD)। সাধারণ সঞ্চয়পত্রের মতো প্রাইজবন্ডে নির্দিষ্ট সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয় না। বরং নির্দিষ্ট সময় পরপর ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ী নম্বর নির্বাচন করা হয় এবং বিজয়ীরা সরকার ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ পান। মূলধন অক্ষুণ্ণ রেখে পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকায় এটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—বাংলাদেশে প্রাইজবন্ড কত ধরনের এবং কত টাকার হয়? এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে নতুন করে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড ইস্যু ও বিক্রি করা হয়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের বর্তমান প্রাইজবন্ড সংক্রান্ত তথ্যেও ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডই উল্লেখ রয়েছে।
তবে অতীতে বাংলাদেশে ১ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২৫ টাকা ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু ছিল। পরবর্তীতে সরকার এসব মূল্যমানের নতুন প্রাইজবন্ড ইস্যু বন্ধ করে দেয় এবং বর্তমানে ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডকেই একমাত্র সক্রিয়ভাবে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। ফলে বর্তমানে নতুন প্রাইজবন্ড কিনতে চাইলে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডই সংগ্রহ করতে হবে।
১০০ টাকার প্রাইজবন্ড দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা এবং অনুমোদিত বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কেনা যায়। একজন ব্যক্তি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি বা একাধিক প্রাইজবন্ড কিনতে পারেন। যেমন, কেউ যদি ৫,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে তিনি ১০০ টাকার ৫০টি প্রাইজবন্ড কিনতে পারবেন। প্রতিটি প্রাইজবন্ডে আলাদা সিরিজ ও নম্বর থাকে এবং ড্রয়ের সময় সেই নম্বরের ভিত্তিতেই পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত বছরে চারবার প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ড্রয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রাইজবন্ডটি নির্ধারিত সময়ের আগে ক্রয় করা থাকতে হয়। ড্রয়ের ফলাফল বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। গ্রাহকরা চাইলে অনলাইনেও নিজেদের প্রাইজবন্ড নম্বর যাচাই করতে পারেন।
বর্তমানে ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডে প্রতি সিরিজে মোট ৪৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা (দুইটি), চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা (দুইটি) এবং পঞ্চম পুরস্কার ১০ হাজার টাকা (৪০টি)। পুরস্কারের অর্থের ওপর প্রচলিত আইন অনুযায়ী উৎসে কর প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রাইজবন্ডের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এতে মূলধন হারানোর ঝুঁকি নেই। অর্থাৎ কোনো ড্রয়ে পুরস্কার না পেলেও প্রাইজবন্ডের মূল মূল্য অক্ষুণ্ণ থাকে। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এটি নগদায়ন করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, প্রাইজবন্ড কোনো সুদ বা নিয়মিত মুনাফা দেয় না। তাই এটি নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নয়; বরং ভাগ্যনির্ভর পুরস্কারভিত্তিক একটি সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থা।
প্রাইজবন্ড কেনা বা পুরস্কারের অর্থ দাবি করার সময় অবশ্যই সরকারি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বিজয়ী হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র, মূল প্রাইজবন্ড এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হয়। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে পুরস্কার দাবি করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই নিয়মিত ড্রয়ের ফলাফল যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইজবন্ড নিয়ে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য বা প্রতারণামূলক অফার দেখা যায়। তাই শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর অথবা অনুমোদিত ব্যাংকের তথ্যের ওপর নির্ভর করাই নিরাপদ। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাইজবন্ড কেনা বা পুরস্কারের প্রলোভনে কোনো অর্থ লেনদেন করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে অতীতে বিভিন্ন মূল্যমানের প্রাইজবন্ড থাকলেও বর্তমানে নতুন করে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডই ইস্যু ও বিক্রি করা হচ্ছে। বছরে চারবার ড্রয়ের মাধ্যমে এই প্রাইজবন্ডে পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে এবং মূলধনও নিরাপদ থাকে। তাই যারা নিরাপদভাবে অর্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান, তাদের জন্য প্রাইজবন্ড একটি পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য সরকারি বিনিয়োগ মাধ্যম হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা জেনে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
