ঘরে বসেই ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ করতে নতুন ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘UCB ONE’ চালু করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCB) PLC। ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে UCB ONE-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শরীফ জহির ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
UCB ONE-কে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা শাখায় না গিয়েও দৈনন্দিন ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। UCB-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ডিজিটালভাবে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে। কাগজপত্রের ঝামেলা কমিয়ে সহজ ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যেই এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও UCB ONE বেশ কিছু সুবিধা দিচ্ছে। গ্রাহকরা নিজেদের UCB অ্যাকাউন্টের মধ্যে, অন্য UCB অ্যাকাউন্টে এবং দেশের অন্যান্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে BEFTN, NPSB ও RTGS-এর মতো বিভিন্ন আন্তঃব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক লেনদেন মোবাইল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
শুধু টাকা স্থানান্তর নয়, দৈনন্দিন বিভিন্ন বিল পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে UCB ONE-এ। ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, মার্চেন্ট পেমেন্ট, শিক্ষা সংক্রান্ত ফি, বিমা এবং নির্দিষ্ট ডিলার পেমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের লেনদেন অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা অন্যান্য নিয়মিত বিল পরিশোধের জন্য প্রতিবার শাখা বা নির্দিষ্ট কাউন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
UCB ONE-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ‘Cash by Code’। এই সুবিধার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী UCB ATM থেকে ডেবিট কার্ড সঙ্গে না থাকলেও কোড ব্যবহার করে নগদ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি করা কোড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ATM থেকে টাকা তোলার সুবিধা গ্রাহকের জন্য জরুরি সময়ে কাজে আসতে পারে।
কার্ড ব্যবস্থাপনাও করা যাবে একই প্ল্যাটফর্ম থেকে। UCB-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকরা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সক্রিয় করা, PIN সেট বা পরিবর্তন করা, কার্ড ব্লক বা আনব্লক করা এবং লেনদেনের সীমা নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ করতে পারবেন। এছাড়া NFC সুবিধা চালু বা বন্ধ করা এবং বিদেশে কার্ড ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু ব্যবস্থাপনাও ডিজিটালি করা সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের জন্যও UCB ONE-এ বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ডিজিটালভাবে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। UCB-এর তালিকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বা অভিভাবকদের নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়ছে।
সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও UCB ONE ব্যবহার করা যাবে। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে Fixed Deposit বা এফডি এবং Deposit Pension Scheme বা DPS খোলার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান বিনিয়োগের তথ্য দেখা এবং প্রয়োজনীয় নথি ব্যবস্থাপনার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। ফলে সঞ্চয় ও আমানত ব্যবস্থাপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ ডিজিটাল মাধ্যমেই করা সম্ভব হচ্ছে।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে UCB মূলত ব্যাংকিং সেবাকে আরও ডিজিটাল, সহজ ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে চাইছে। ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, UCB ONE-এর মাধ্যমে গ্রাহকের দৈনন্দিন আর্থিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেমেন্ট, ট্রান্সফার, কার্ড ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চয়সংক্রান্ত সেবাও একটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। ফলে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতাও আরও সুবিধাজনক করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। UCB তাদের গ্রাহকদের শুধু Google Play Store ও Apple App Store থেকে অফিসিয়াল UCB ONE অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যাংকটি সতর্ক করেছে, WhatsApp, SMS, ই-মেইল বা তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া APK বা সন্দেহজনক লিংক ব্যবহার করে অ্যাপ ইনস্টল করা উচিত নয়। অ্যাপ ব্যবহারের সময় অফিসিয়াল ডেভেলপার বা প্রকাশকের তথ্য যাচাই এবং নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক লগইন সক্রিয় রাখার পরামর্শও দিয়েছে ব্যাংকটি।
সব মিলিয়ে, UCB ONE চালুর ফলে UCB গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবার বড় একটি অংশ মোবাইলভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, কার্ড ব্যবস্থাপনা, নগদ উত্তোলন, শিক্ষা ফি এবং সঞ্চয়সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ এক জায়গা থেকে করার সুবিধা থাকায় ঘরে বসে ব্যাংকিং আরও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অ্যাপ ব্যবহারের আগে অবশ্যই অফিসিয়াল উৎস থেকে অ্যাপ সংগ্রহ এবং লেনদেনের সময় ব্যক্তিগত PIN, OTP ও অন্যান্য গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখা জরুরি।