ট্রেনে ভ্রমণে এখন এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক (নতুন নির্দেশনা)

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ
ট্রেনে ভ্রমণে এখন এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক (নতুন নির্দেশনা)

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ভ্রমণে এনআইডি সংক্রান্ত নিয়ম

বাংলাদেশে ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রী পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে কয়েক বছর ধরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)ভিত্তিক ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সম্প্রতি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় অনেক যাত্রীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ট্রেনে উঠতে কি এখন এনআইডি কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক, নাকি শুধু টিকিট কেনার সময় এনআইডি প্রয়োজন?

বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য যাত্রীকে প্রথমে নিবন্ধন (Registration) করতে হয় এবং এই নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করতে হয়। এই নিবন্ধন ছাড়া নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে টিকিট কেনা যায় না।

রেলওয়ের “টিকিট যার, ভ্রমণ তার” নীতির আওতায় প্রতিটি টিকিট নির্দিষ্ট যাত্রীর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর ফলে ভুয়া পরিচয়ে টিকিট কেনা, টিকিট কালোবাজারি এবং অন্যের নামে টিকিট ব্যবহার করার প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে। এই ব্যবস্থা প্রথমে আন্তঃনগর ট্রেনে চালু করা হলেও পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

এনআইডি কেন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে?

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এনআইডিভিত্তিক নিবন্ধনের মূল উদ্দেশ্য হলো যাত্রীর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা এবং টিকিট ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ করা। অতীতে একই ব্যক্তি একাধিক নামে টিকিট সংগ্রহ, টিকিট পুনর্বিক্রি এবং ভুয়া পরিচয়ে ভ্রমণের অভিযোগ ছিল। ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব অনিয়ম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

অনলাইনে টিকিট কাটতে কী করতে হবে?

বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম বা “রেল সেবা” অ্যাপে প্রথমবার নিবন্ধনের সময় এনআইডি নম্বর অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই ট্রেন, তারিখ ও আসন নির্বাচন করে টিকিট কেনা যায়। রেলওয়ে যাত্রীদের প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট ও “রেল সেবা” অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।

কাউন্টার থেকেও কি এনআইডি লাগবে?

বর্তমান ব্যবস্থায় আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেনার ক্ষেত্রেও নিবন্ধিত পরিচয় ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন থাকলে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই টিকিট ইস্যু করা হয়।

ট্রেনে ওঠার সময় কি এনআইডি দেখাতে হবে?

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টিকিট পরীক্ষকের প্রয়োজনে যাত্রীর পরিচয় যাচাই করতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় এনআইডি কার্ড, স্মার্ট এনআইডি অথবা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা নিরাপদ। তবে বর্তমানে এমন কোনো নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি যাতে প্রত্যেক যাত্রীকে প্রতিবার ট্রেনে ওঠার সময় বাধ্যতামূলকভাবে এনআইডির হার্ড কপি প্রদর্শন করতে হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে টিকিটের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তা দেখা হতে পারে।

১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

যেসব যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যায়। এ কারণে এনআইডি না থাকলেও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে তারা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারে।

পরিবারের সদস্যদের জন্য কি আলাদা এনআইডি লাগবে?

রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যাত্রীসুবিধার কথা বিবেচনা করে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিথিলতা এনেছে। বর্তমানে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ চারজন সদস্য একজনের এনআইডি ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারেন। ফলে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পৃথক এনআইডি দেখিয়ে টিকিট কাটার বাধ্যবাধকতা নেই। এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন

টিকিট অবশ্যই নিজের নিবন্ধিত তথ্য ব্যবহার করে কিনুন। অন্যের নামে কেনা টিকিট ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ভ্রমণের সময় ই-টিকিটের কপি বা প্রিন্টেড টিকিট সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি, স্মার্ট এনআইডি, জন্মনিবন্ধন বা অন্য গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলে অতিরিক্ত ঝামেলা এড়ানো যাবে। এছাড়া টিকিট কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত ওয়েবসাইট বা “রেল সেবা” অ্যাপ ব্যবহার করুন এবং দালাল বা অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকুন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ রেলওয়ের এনআইডিভিত্তিক ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এখন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। নতুন কোনো নিয়মে হঠাৎ করে এনআইডি বাধ্যতামূলক করা হয়নি; বরং ২০২৩ সাল থেকেই নিবন্ধনভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর লক্ষ্য যাত্রীসেবা সহজ করা, টিকিট কালোবাজারি রোধ করা এবং নিরাপদ ও স্বচ্ছ রেলসেবা নিশ্চিত করা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page