দেশ মেরামতে থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে জাতিসংঘে তারেক রহমান

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
দেশ মেরামতে থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে জাতিসংঘে তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে মেরামতে সরকার ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে। এই কৌশলের তিনটি ধাপ হলো—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে।

ভাষণে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের শাসনামলে গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মতো বিষয়গুলো থেকে মুক্ত হয়ে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্যও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। এসব সংঘাত সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ভাষণে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এলডিসি থেকে উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সবাই নিরাপদে ও সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page