স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্তি তৈরি হচ্ছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বিশ্বব্যবস্থা দেখতে চায়, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে। একই সঙ্গে একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

ভাষণের শুরুতে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী এবং দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদেরও স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তাঁর ভাষণের পূর্ণ পাঠ অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার কথা তুলে ধরেন।

জাতিসংঘে নিজের পরিবারের সদস্যদের ভাষণের স্মৃতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একই বিশ্বমঞ্চে তাঁর বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় তিনিও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।

ভাষণে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বশান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page