ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশকে ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশের পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশ গঠনে এগিয়ে এলে কোনো বাধাই সেই উদ্যোগকে আটকে রাখতে পারবে না। আগামী তিন মাস ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য শুধু সরকারি সংস্থা বা মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকেও তিনি জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি।’ প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিলে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। এবার রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করার লক্ষ্য নিয়েও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন করেন।
সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসজুড়ে দেশব্যাপী এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরকে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনা করে এই সময়ে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশ নিচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলা থেকেও কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও আশপাশে পানি জমে থাকার স্থান শনাক্ত করে তা পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতেও চাপ তৈরি হয়েছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
