একটি ভূল ক্লিকে সাইবার অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে আপনার স্মার্টফোন
এক ক্লিকেই হ্যাক হতে পারে ফোন!
স্মার্টফোনে অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখা এখন প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন সামনে আসে। তবে এসব বিজ্ঞাপনের মধ্যে কিছুতে লুকিয়ে থাকতে পারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার। অসাবধানতাবশত এমন কোনো বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে অ্যাপ ডাউনলোড বা ইনস্টল করলে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে ব্যাংকিং নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফিক অ্যাপের বিজ্ঞাপনের আড়ালে ছড়ানো ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে সাইবার অপরাধীরা অননুমোদিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। আক্রান্ত ডিভাইস থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি এবং ব্যাংকিং-সংক্রান্ত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্র (I4C)। তাদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের আড়ালে ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপ ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন বা প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের এসব অ্যাপ ডাউনলোডে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এসব অ্যাপের বড় একটি ঝুঁকি হলো, এগুলো সাধারণত গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরের মতো অনুমোদিত অ্যাপ প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায় না। বরং ব্যবহারকারীকে অচেনা বা অনির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। ফলে অ্যাপটির প্রকৃত নিরাপত্তা যাচাই না করেই অনেকে সেটি ফোনে ইনস্টল করে ফেলেন।
সতর্কবার্তায় কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাপের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নাইট প্লে, রিলুপ, কিস, ভিমো, রিভো, নেক্সো ও ভিক্সা। ব্যবহারকারীদের এসব অ্যাপ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করার পর সেটি ফোনের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারের অনুমতি চাইতে পারে। ব্যবহারকারী যদি বিষয়টি না বুঝে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুমতি দিয়ে দেন, তাহলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কনট্যাক্ট, স্টোরেজসহ বিভিন্ন সুবিধার অনুমতি পাওয়ার মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ফোনের তথ্য ও কার্যক্রমে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
ম্যালওয়্যার আক্রান্ত ডিভাইস থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য চুরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ফোনে ভিপিএন স্থাপন করে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগকে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রিত সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনার চেষ্টা করতে পারে। এতে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম নজরদারির ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেনও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিরাপদ থাকতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা, অজানা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা এবং কোনো অ্যাপ ইনস্টলের আগে সেটি কী কী অনুমতি চাইছে তা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজন না থাকলে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কনট্যাক্ট বা স্টোরেজ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়াই নিরাপদ।
এ ছাড়া স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও সাইবার হামলার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাই কোনো বিজ্ঞাপন বা অ্যাপের আকর্ষণীয় অফারে দ্রুত সাড়া না দিয়ে সেটির উৎস ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করাই হতে পারে স্মার্টফোন নিরাপদ রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
