সঞ্চয়পত্রে এখন কত মুনাফা? ২০২৬ সালের সর্বশেষ হার ও কোনটিতে লাভ বেশি জানুন
২০২৬ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো জাতীয় সঞ্চয়পত্র। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রবাসী, গৃহিণী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই নিয়মিত আয়ের জন্য সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন। ২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সব ধরনের জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আগের হারেই মুনাফা পাবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি সময়ে সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিমে বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ১১.৭৭ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বার্ষিক মুনাফা পাচ্ছেন। বিনিয়োগের পরিমাণ এবং স্কিমভেদে এই হার কিছুটা পরিবর্তিত হয়। সরকার বছরে দুইবার—জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর—মুনাফার হার পর্যালোচনা করলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মুনাফা দিচ্ছে পেনশনার সঞ্চয়পত্র। নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে এ স্কিমে সর্বোচ্চ ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম আকর্ষণীয় বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর পরেই রয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র, যেখানে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ১১.৯৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেতে পারেন। এটি মূলত নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের কথা বিবেচনা করে চালু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই স্কিমে নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১.৮৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দিচ্ছে। যারা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগ করতে চান, তাদের কাছে এই স্কিমটি বেশ জনপ্রিয়। একইভাবে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১.৮২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। এই স্কিমের বিশেষ সুবিধা হলো প্রতি তিন মাস পরপর মুনাফা উত্তোলন করা যায়, যা নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী।
তাহলে প্রশ্ন হলো, কোন সঞ্চয়পত্রে লাভ বেশি? শুধুমাত্র মুনাফার হার বিবেচনা করলে পেনশনার সঞ্চয়পত্র সবার শীর্ষে রয়েছে। তবে সব বিনিয়োগকারীর জন্য এই স্কিম উন্মুক্ত নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ভালো বিকল্প হতে পারে। কোন স্কিমটি নির্বাচন করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার আর্থিক লক্ষ্য, নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন এবং বিনিয়োগের যোগ্যতার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আগে শুধুমাত্র মুনাফার হার নয়, বরং বিনিয়োগের মেয়াদ, কর কর্তনের নিয়ম, আগাম ভাঙানোর শর্ত এবং সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমাও বিবেচনা করা উচিত। বর্তমানে সরকার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ই-টিআইএন (যেখানে প্রযোজ্য) এবং নির্ধারিত আবেদনপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের আমানতের সুদের হার বাড়লেও সঞ্চয়পত্র এখনো ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। বিশেষ করে যাদের নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন এবং মূলধনের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তাদের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্র এখনো একটি কার্যকর বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি জেনে নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে নতুন ও বিদ্যমান উভয় বিনিয়োগকারীরাই আগের হার অনুযায়ী মুনাফা পাবেন। আপনি যদি নিরাপদ ও সরকার-সমর্থিত বিনিয়োগ খুঁজে থাকেন, তাহলে নিজের প্রয়োজন ও যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক সঞ্চয়পত্র নির্বাচন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
