প্রতিবন্ধী ভাতা কত মাস পর পর দেয় জানুন নতুন নিয়ম

প্রকাশিত: 13-05-2026 8:51 AM
প্রতিবন্ধী ভাতা কতদিন পর পর দেওয়া হয়

বাংলাদেশ সরকার অসচ্ছল ও দুস্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করে আসছে। তবে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে—প্রতিবন্ধী ভাতা কত মাস পর পর দেওয়া হয়, কত টাকা পাওয়া যায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হয়। বিশেষ করে নতুন আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে কৌতূহল বেশি দেখা যায়।

আরও পড়ুন-প্রতিবন্ধী ভাতা কয় মাস পর পর দেয়?

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ভাতা সাধারণত তিন মাস পর পর একসঙ্গে প্রদান করা হয়। অর্থাৎ বছরে মোট চার কিস্তিতে এই ভাতার টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে ভাতার অর্থ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার মাসিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০০ টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে একজন উপকারভোগী মোট ২ হাজার ৭০০ টাকা একসঙ্গে পান। সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণ করায় আগের তুলনায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের DIS (Disability Information System) ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত হতে হবে এবং সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীকে অসচ্ছল ও প্রকৃত প্রতিবন্ধী হিসেবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হয়।

আবেদন প্রক্রিয়াও এখন অনেক সহজ করা হয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে dss.bhata.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকেও সহায়তা নেওয়া যায়। আবেদন যাচাই ও অনুমোদনের পর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে নিয়মিত ভাতার টাকা পাওয়া শুরু হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ৬ বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার টাকার কম হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের চাপের মধ্যে অনেক অসচ্ছল পরিবারের জন্য এই সহায়তা কিছুটা স্বস্তি তৈরি করছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাতা সংক্রান্ত ভুয়া ফোন কল বা প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় প্রতারকচক্র ভাতা বাড়ানো বা দ্রুত টাকা দেওয়ার নামে ব্যক্তিগত তথ্য বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন নম্বর চেয়ে থাকে। এ ধরনের কোনো তথ্য কাউকে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণের ফলে উপকারভোগীরা এখন ঘরে বসেই টাকা পাচ্ছেন, যা দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর ঝুঁকি কমিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সরকারি ভাতা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য।

আরও পড়ুন-প্রতিবন্ধী ভাতা মোবাইলের কোন ব্যাংকিং এ দেওয়া হয়?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now