বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা পেপ্যাল (PayPal) চালুর বিষয়ে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে সরকার। পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু এবং দেশের বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আসছে বড় সুখবর
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ফ্রিল্যান্সার, আইটি উদ্যোক্তা, অনলাইন ব্যবসায়ী এবং বৈদেশিক লেনদেনকারীরা বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন এই ঘোষণাকে তাই প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের হাইটেক সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি পেপ্যাল চালুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশে পেপ্যাল চালুর আলোচনা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ, বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে পেপ্যাল চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেপ্যাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। বর্তমানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণে বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। পেপ্যাল চালু হলে আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ হবে।
এদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেপ্যাল চালু হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এখন প্রযুক্তি খাতের নজর থাকবে নবগঠিত কমিটির কার্যক্রম ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পেপ্যাল চালুর বিষয়ে এবার বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।
সূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন, ১০ জুন ২০২৬।
আরও পড়ুন-বিটিসিএল চালু করছে .bd ও .বাংলা ডোমেইন রিসেলার সিস্টেম!










