এনআইডি সংশোধনে ৬৮ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত ইসির

SSIT BARI DESK
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
এনআইডি সংশোধনে ৬৮ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত ইসির

এনআইডি সংশোধনে ৬৮ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত ইসির

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) তথ্যগত ভুল সংশোধনের জন্য আবেদনকারীদের চাপ বেড়েছে নির্বাচন কমিশনে। নামের বানান ভুল, ধর্মান্তরের কারণে নাম পরিবর্তন, পেশা সংশোধন, বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত তথ্য আপডেটসহ বিভিন্ন কারণে নাগরিকরা সংশোধনের জন্য আবেদন করছেন। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যা ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-১৬ বছরেই এনআইডি মিলবে ভোটাধিকার থাকবে ১৮ তে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের প্রায় ৬৮ হাজার আবেদন জমা রয়েছে, যার বেশিরভাগই মাঠ পর্যায়ে আটকে আছে। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী মাঠ অফিসের কর্মকর্তারা তিনটি ক্যাটাগরিতে সংশোধন করতে পারেন। এই ক্যাটাগরিগুলো ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ নামে পরিচিত, যা সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। বর্তমানে জমে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে মোট পেন্ডিং আবেদন রয়েছে ৬৭ হাজার ৮৬৪টি। এর মধ্যে ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১ হাজার ২৭৩টি আবেদন, ‘ক’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১৬ হাজার ৪২১টি, ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ৫ হাজার ৭২৫টি, ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার ৩১৮টি এবং ‘গ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১৯ হাজার ১২৭টি আবেদন। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা না গেলে নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পরিবর্তনের আবেদন আসে। এর মধ্যে নামের বানান সংশোধন, জন্ম তারিখের ভুল, পেশা পরিবর্তন, ঠিকানা হালনাগাদ কিংবা বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন অন্যতম। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মান্তরের কারণে নাম পরিবর্তনের আবেদনও দেখা যাচ্ছে, যা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ তথ্য সংশোধনের দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর থাকলেও জন্ম তারিখ সংশোধনের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এটি এককভাবে এনআইডির মহাপরিচালকের অনুমোদনে করা হয়। আগে জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষমতা পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের থাকলেও এখন তা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যাতে ভুল বা অপব্যবহার কমানো যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এনআইডি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, যা ব্যাংকিং, পাসপোর্ট, জমি রেজিস্ট্রি, চাকরি ও বিভিন্ন সরকারি সেবার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। তাই এতে কোনো ভুল থাকলে তা নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। ফলে দ্রুত ও সঠিকভাবে সংশোধনের সুযোগ থাকা জরুরি।

নাগরিকদের ভোগান্তির একটি বড় কারণ ছিল আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মাসের পর মাস আবেদন জমা থাকলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশোধনের ক্ষেত্রে যথাযথ কাগজপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ, আদালতের আদেশ বা অন্যান্য প্রমাণপত্র ছাড়া অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ডিজিটাল সেবার উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের জট কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এনআইডি সংশোধনে জমে থাকা বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির এই সিদ্ধান্ত নাগরিক সেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের গতি এবং যথাযথ তদারকির ওপর।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন (ইসি), এনআইডি অনুবিভাগের তথ্য।

আরও পড়ুন-এনআইডিতে যুক্ত হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page