এনআইডিতে যুক্ত হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম
এনআইডিতে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম যুক্ত করছে নির্বাচন কমিশন
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবার এনআইডিতে পিতা-মাতার নাম বাংলা পাশাপাশি ইংরেজিতেও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন ফরমে নিজ নামের পাশাপাশি ডাকনাম এবং পিতা-মাতার ডাকনাম সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-১৬ বছরেই এনআইডি মিলবে ভোটাধিকার থাকবে ১৮ তে
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট এবং জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে নাগরিকের নাম ও পিতা-মাতার নাম ইংরেজিতে উল্লেখ থাকে। কিন্তু এনআইডিতে এই তথ্য শুধুমাত্র বাংলায় থাকায় অনেক সময় তথ্যের অমিল তৈরি হয়। বিশেষ করে বিদেশে ভিসা আবেদন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাজে ইংরেজি নামের অভাবে নাগরিকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এনআইডিতে ইংরেজি নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগ নতুন নয়; এর পরিকল্পনা আগেই নেওয়া হয়েছিল। সাবেক এনআইডি মহাপরিচালকের সময় বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন পায়। বর্তমানে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন এই পরিবর্তনের আওতায় এনআইডি কার্ডে নাগরিকের নিজ নাম এবং পিতা-মাতার নাম বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর নামও ইংরেজিতে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ডাকনাম সংক্রান্ত তথ্য শুধু ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, এনআইডি কার্ডে তা মুদ্রিত হবে না।
এছাড়া এনআইডির নিবন্ধন ফরম-২-এ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন ফরমে নাগরিকের ডাকনাম, পিতা-মাতার ডাকনাম এবং স্বামী-স্ত্রীর ডাকনামের জন্য আলাদা ফিল্ড যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তির পরিচয় যাচাই আরও সহজ হবে এবং ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণ আরও সমৃদ্ধ হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে—ভোটার নিবন্ধনের সময় এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশের ব্যবস্থা। এই সুপারিশ দিতে পারবেন স্কুল শিক্ষক, চিকিৎসক বা সমাজে পরিচিত কোনো ব্যক্তি। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা কমবে এবং নাগরিক তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এনআইডি ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন দেশের নাগরিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। বিশেষ করে বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রমে এটি বড় ধরনের সুবিধা এনে দেবে।
বর্তমানে এই উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে নাগরিকদের পরিচয়পত্র আরও আধুনিক, নির্ভুল এবং ব্যবহারবান্ধব হয়ে উঠবে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
